সাইত্রিশ দেশের সঙ্গে ১৩৮ চুক্তি

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ পর্যন্ত ৩৭টি দেশের সাথে ১৩৮টি চুক্তি/সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে স্পিকার মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা জানান। মো. শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, এসব চুক্তির মধ্যে ২৫টি ভারতের সাথে। এরপরই রয়েছে ১৩টি দক্ষিণ কোরিয়া, ১২টি চীন ও বেলারুশ, ১১টি তুরস্ক, রাশিয়া নয়টি। একটি চুক্তি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। এছাড়া সাতটি কুয়েত, ছয়টি জাপান, চারটি মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম (একটি বেসরকরি পর্যায়ে), তিনটি থাইল্যান্ড, দু’টি করে ইউক্রোন, গ্রীস, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, জর্ডান, মিয়ানমার (একটি বেসরকারি পর্যায়ে) ও দক্ষিণ সুদান, একটি করে ইন্দোনেশিয়া, লাওস, কানাডা, চিলি, মরিশাস, মিশর, রুয়ান্ডা, মরক্কো, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর কোরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, জার্মানী, সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম অপরাধ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান, দু’দেশের সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিজ দেশে সাজার মেয়াদ ভোগ সংক্রান্ত, সন্ত্রাস, অপরাধ দমন এবং মাদক পাচার সংক্রান্ত, বিদ্যুত্ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত, সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম, সহযোগিতা ও উন্নয়নের কাঠামোগত, স্থল সীমানা চুক্তি সংক্রান্ত প্রটোকল, রেলপথ বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের সংযোজন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিষয়ক প্রটোকল, সুন্দরবন রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক প্রটোকল, ভিসা সহজীকরণ ব্যবস্থা। এছাড়া এক বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তাসহ আরো কিছু কার্যপদ্ধতি সংক্রান্ত দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জয়েন্ট ডিক্লারেশন অন বাংলাদেশ-ইউএস পার্টনারশিপ ডায়ালোগ স্বাক্ষরিত হয়েছে। চা বাগান উন্নয়ন: শফিকুর রহমান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জানান, চা বাগানের উন্নয়নের লক্ষ্যে ৯৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২ বছর মেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। চা শ্রমিক ও কর্মচারীদের পোষ্যদের বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হয়। দেশের ১৬৫টি চা বাগানের মধ্যে ১০৭টিতে ১৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়েছে। হ্রাস পেয়েছে স্কুল থেকে ঝরে পড়া: এম. আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়েছে। বিগত এক বছরে ঝরে পড়ার হার ১১ শতাংশ কমে বর্তমানে ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশ হয়েছে।