ক্যান্সারের কাছে
হার মানলেন
শ্যাভেজ
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৫২
ভেনিজুয়েলার জনপ্রিয় সমাজতান্ত্রিক নেতা হুগো শ্যাভেজ আর নেই। প্রায় দুই বছর মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মঙ্গলবার রাজধানীর কারাকাসের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন দীর্ঘ ১৪ বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকারী ৫৮ বছর বয়সী এই নেতা। আগামীকাল শুক্রবার তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। তার মৃত্যুতে দেশটিতে এক সপ্তাহের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। খবর বিবিসি, এনডিটিভি ও রয়টার্সের।
শ্যাভেজের মৃত্যুতে তার সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা বলেন, ‘শ্যাভেজ মরে নাই, আমরা সবাই শ্যাভেজ’। শ্যাভেজের মৃত্যুতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনসহ বিশ্ব নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ভেনিজুয়েলার পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এলিয়াস জাওয়া বলেছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। ২০১২ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে শ্যাভেজ আরো ছয় বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। মঙ্গলবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শ্যাভেজের মৃত্যুসংবাদ জানান মাদুরো। মাদুরো বলেন, এটি আমাদের জন্য এক গভীর বেদনার দিন।
২০১১ সালের মাঝামাঝি শ্যাভেজের দেহে ক্যান্সার ধরা পড়ে। চতুর্থবারের মতো অস্ত্রোপচারের জন্য তিনি গত বছরের ১১ ডিসেম্বর কিউবার হাভানায় যান। কিউবায় চিকিত্সা শেষে গত মাসে দেশে ফেরেন শ্যাভেজ। তিনি রাজধানী কারাকাসের সামরিক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল চারটা ২৫ মিনিটে মারা যান। ১৯৫৪ সালে সাধারণ স্কুল শিক্ষকের ঘরে জন্ম নেয়া শ্যাভেজ ছিলেন বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। শোষিত মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অগ্রদূত কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো, বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র। ১৯৭৫ সালে ভেনিজুয়েলার একাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্স থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীর ভেতরে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৯৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় আসেন বামপন্থী এই নেতা। ২০০২ সালে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হলেও দুই দিন পরই আবার ক্ষমতায় আসেন তিনি।
শ্যাভেজের মৃত্যুতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার পরিবার ও দেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শ্যাভেজের মৃত্যুতে তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ কিউবায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্যাভেজ ছেলের মতো ফিদেল ক্যাস্ট্রোর পাশে ছিলেন। আর্জেন্টিনায়ও তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তার মৃত্যুর খবর শুনে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি ক্রিস্টনার তার সব কর্মসূচি স্থগিত করেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং এ সপ্তাহে তার আর্জেন্টিনা সফর স্থগিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শ্যাভেজের মৃত্যুতে ভেনিজুয়েলা কঠিন সময় পার করছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দেশটির সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। শ্যাভেজের ক্যান্সারের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত আছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ভেনিজুয়েলা থেকে মার্কিন দূতাবাসের দুই কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিজুয়েলার সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করছে।
শ্যাভেজের মৃত্যুকে একটি ট্রাজেডি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেন, শ্যাভেজ ১৪ বছর ক্ষমতায় ছিলেন, স্মৃতি রেখে গেছেন দীর্ঘ দিনের জন্য।
এছাড়া ভারত, বলিভিয়া, ফ্রান্স, পেরু, ইরান, মেক্সিকো এবং কলম্বিয়া ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ শ্যাভেজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। ইরান বুধবার একদিনের শোক ঘোষণা করে।