বাঁশখালীতে নিহত দয়াল হরির পরিবার এখনো আতঙ্কে

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে গত বৃহস্পতিবার জামায়াত-শিবিরের দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে নিহত দয়াল হরির পরিবারে আতংক কাটেনি। ভয়ে থানায় কোন মামলাও করেনি তারা। নিহত দয়াল হরির কন্যা স্বপ্না শীল গতকাল একথা জানান। উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের নাথপাড়া এলাকার দয়ালহরি (৫৫) ওইদিন বাঁশখালী পৌর শহরের মহাজনপাড়া সংলগ্ন শীলপাড়ায় তার মেয়ে স্বপ্নাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষিত হওয়ার পর জামায়াত শিবিরের মিছিল থেকে পৌর শহরের শীলপাড়ার ৬টি হিন্দুবাড়িতে আগুন দেয়া হয়। ভয়ে বাথরুমে লুকানোর চেষ্টা করলেও শিবিরকর্মীরা দয়াল হরিকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। অগ্নিকান্ডে পুলিন, সুনীল, দুলাল, আশীষ, স্বপন ও সম্ভু শীলের বাড়িসহ ৬টি বসতবাড়ি পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি লোকনাথ মন্দির, একটি গাভীসহ দুটি গোয়ালঘর, হাসঁ-মুরগি, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক লুটপাটও চালায়। অগ্নি সংযোগের পর সেখানে তারা দুই ঘন্টারও বেশী সময় ধরে উল্লাস করে। একই সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে হাজার হাজার জামায়াত-শিবির কর্মীর মিছিল থেকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, বাঁশখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, পৌরসভা ভবন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ শতাধিক যানবাহন, ব্যাংক বীমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বাঁশখালীতে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও প্রায় প্রতিদিনই পুলিশের উপর হামলা হচ্ছে। গত শনিবার বাঁশখালী-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের নাপোড়া বেইলি ব্রীজটি ভেঙে দিয়ে বাঁশখালী সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে জামায়াত-শিবির। একই দিনে চাম্বল বাজারে সংখ্যালঘুদের দোকানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানোর পর বিজিবি সদস্যরা গুলি চালালে মিছিলকারীরা পালিয়ে যায়। বাঁশখালীর তান্ডবের ঘটনায় পুলিশ এবং আদালতের কর্মকর্তা বাদি হয়ে এপযর্ন্ত ৫টি মামলা করলেও দয়াল হরির কোনো স্বজন মামলা করতে সাহস পায়নি। বসতবাড়ি ও মন্দিরে আগুন দেয়ার ঘটনায়ও কোনো মামলা হয়নি।