গণতন্ত্র ধ্বংস করে বিকল্প শাসন আনতে দেবো না

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গৃহযুদ্ধ এড়াতে আওয়ামী লীগ মাঠে নামছে না উল্লেখ করে বলেছেন, একটি মহল স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিপক্ষে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামিয়ে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে আরেকটি ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি করতে চায়। তাদের মূল উদ্দেশ্য দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ভিন্ন কোন রাষ্ট্র বা অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। তবে যত চেষ্টাই করুক না কেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ধ্বংস করে বিকল্প শাসন আনতে দেবে না। গতকাল বুধবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করছে দাবি করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, এ দেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান কিন্তু আবহমানকাল ধরে এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সবাই মিলেমিশে বাস করছে। এদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। তিনি বলেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক দল। দ্বিজাতি-তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তানকে তারা মেনে নেয়নি। তারা হরতালের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ১০ জন আলেমকে হত্যা করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সে পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, দেশে এমন কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে সেনাবাহিনী নামাতে হবে। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরকার তার নিজস্ব সম্পদ ও কৌশল দিয়ে মোকাবেলা করবে। কেউ একে সরকারের দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে। সৈয়দ আশরাফ বলেন, অনেকে বলছেন সহিংসতা প্রতিরোধে আওয়ামী লীগ কেন মাঠে নামছে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ পুলিশ বাহিনী নয়, রাজনৈতিক দল। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। আমরা নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারি না। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশে হবে না। একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর থেকে দেশব্যাপী সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব বিএনপি-জামায়াতকে নিতে হবে দাবি করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে সাংবাদিক সম্মেলন করে গৃহযুদ্ধের নির্দেশনা দিলেন। এখন তার প্রতিফলন দেখছেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের সময় বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সাক্ষাত্ না করার বিষয়টিকে সৈয়দ আশরাফ ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত’ বলে মন্তব্য করেন। আশরাফ বলেন, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া রয়েছে। সরকার যাচাই বাছাই করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে স্যালুট জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, তারা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে সেজন্য জাতি চিরদিন তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।