হরতালের কারণে নারায়ণগঞ্জে
রপ্তানিমুখী পোশাকের স্তূপ
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৪
একটানা তিন দিনের হরতালের কারণে নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস শিল্পে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে অনেক গার্মেন্টস মালিকই তাদের তৈরি গার্মেন্টস সামগ্রী পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন বিদেশি ক্রেতারা এসব গার্মেন্টস সামগ্রী বিমানে পাঠানোর জন্য স্থানীয় গার্মেন্টস মালিকদের চাপ দিচ্ছেন। অন্যথায় তারা অর্ডার বাতিলের হুমকি দিয়েছেন বলেও কোন কোন গার্মেন্টস মালিক দাবি করেছেন।
হরতালের কারণে অনেক কারখানায় তৈরি পোশাকের স্তূপ হয়ে আছে। বিকেএমইএ’র একটি সূত্র বলেছে, জামায়াত ও বিএনপির ডাকা মোট তিনদিনের হরতালে নিটওয়্যার খাতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন দুশ কোটি টাকার নিটওয়্যার সামগ্রী বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে বিকেএমই-এর সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান জানান, গত তিনদিনে যা হয়েছে তাকে হরতার বলা চলে না। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার কিন্তু অবশ্যই এটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। জামায়াতের ডাকা হরতাল মানেই সহিংসতা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ। অন্যান্য যানবাহনের মতো তৈরি পোশাকবাহী কাভার্ড ভ্যানেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে এবার। যদিও আগে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। গত তিনদিনের টানা হরতালে তাই নারায়ণগঞ্জ থেকে কোনো তৈরি পোশাকবাহী কন্টেইনার যায়নি চট্টগ্রাম বন্দরে। হরতালে তৈরি পোশাক নিয়ে চরম বিপত্তির কথা জানালেন গার্মেন্টস মালিকরা।
বিকেএমইএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মঞ্জুরুল হক বলেন, হরতাল তিনদিন হলেও মূলত আমাদের সাথে বিদেশের সংযোগ বন্ধ ছিল পাঁচ দিন। যে কারণে গার্মেন্টস শিল্পে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরতালের কারণে কয়েক শ’ কোটি টাকার অর্ডার বাতিল হবার সম্ভাবনা রয়েছে। অধিকাংশ বিদেশি ক্রেতা পণ্য নিতে রাজি হলেও তারা বিমানে পাঠাতে বলছে। আর বিমানে পণ্য পাঠাতে গেলে পরিবহন ব্যয় পাঁচ থেকে দশগুণ বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী নিট সেক্টর আগে হরতালের আওতার বাইরে থাকলেও এবারে তা মানা হয়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে ছোট-বড় বিশ ভাগ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাবে।
গতকাল বুধবার বিসিক শিল্প নগরীর অবন্তি কালার, এমবি নীট, নীট ফ্যাশনসহ বিভিন্ন গার্মেন্টস ঘুরে দেখা গেছে তৈরি পোশাক কার্টন ভর্তি করে উঁচু করে রাখা আছে। কার্টন রাখার গুদামে কার্টনতো জমেছেই। বাধ্য হয়ে রাখতে হচ্ছে কাজ করার প্রতিটি ফ্লোরে, গার্মেন্টসের করিডোরে, ক্যান্টিনে। যেখানে ফাঁকা জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই তৈরি পোশাক রাখা হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতির কথা ভেবে হরতালে অগ্নিসংযোগের মতো ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন নিট গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, হরতালে শুধু গার্মেন্টস শিল্পের ক্ষতি হয় না, সব শিল্পেরই ক্ষতি হয়। হরতাল দেশের অর্থনীতির শত্রু। আমরা সবসময় এর বিপক্ষে।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে অনেক গার্মেন্টস মালিক আমাদের ফোন করছেন। হরতালের কারণে তাদের আটকে পড়া তৈরি পোশাক কিভাবে বিদেশে পাঠানো যায় সে ব্যাপারে তার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে। এক কন্টেইনার পোশাক বিমানে পাঠাতে ২০-২৫ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু জাহাজে পাঠালে এ টাকা লাগে না। চট্টগ্রামে বিভিন্ন পণ্যবাহী দুই হাজার ৭০০ কন্টেইনার পড়ে আছে, যা জাহাজে তোলা যাচ্ছে না। আগে হরতালে এমন ছিল না। রাতের বেলায়ও কন্টেইনারে মাল পাঠানো যেতো। কিন্তু এবার রাতের বেলাতেও হামলা হচ্ছে। কন্টেইনারে আগুন লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতি হবে ।