সাহসিকতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কনস্টেবল ফারুকের সাহসী মৃত্যু

জীবনের চেয়ে কর্তব্যই বড় ছিল ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে জামায়াত-শিবিরের সমর্থকদের হাতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল গাজী ওমর ফারুকের কাছে। ৯ বছরের চাকুরী জীবনে কর্তব্য নিষ্ঠা ও সাহসিকতার জন্য তিনি সাতবার পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি চট্ট্রগ্রাম আরআরএফ’এ যোগদান করেন। এরপর বান্দরবন, বরিশাল (বিএমপি) ও সর্বশেষ ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সোনাতনপুর পুলিশ ক্যাম্পে যোগদান করেন। তাদের সংসার তেমন স্বচ্ছল নয়। সংসারে ৪ বছরের শিশুকন্যা জান্নাতুল ফেরদাউস, স্ত্রী আজমিরা খাতুন, পিতা গাজী মোহাম্মদ আলী, মা মর্জিনা বেগম ও ছোট ভাই আকবর আলী রয়েছেন। তার অনেক স্বপ্ন ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখে থাকবেন। কিন্তু মৃত্যুর সাথে সাথে সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল। ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন বলেন, ওমর ফারুক অত্যন্ত সাহসী ও কর্তব্যপরায়ন ছিলেন। ঘটনার দিন জামায়াত শিবিরের হামলার মুখেও তিনি পিছু হটেননি। সামনে এগিয়ে তাদের তান্ডব প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এক পর্যায়ে পায়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তিনি। তখনই জামায়াত-শিবির কর্মীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তার কাছে থাকা শর্টগানটি নিয়ে যায়। ফারুকের পিতা গাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, ফারুক ছিল সত্ ও নিষ্ঠাবান। কর্তব্য পালন করতে গিয়ে এমন নির্মমভাবে মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না।