বরিশালে নবনির্মিত ২৩ খাদ্য গুদাম পরিত্যক্ত
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৫
দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনবল সংকট, বিদ্যুত্ ও আবাসিক সুবিধা না থাকায় বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার ২৩টি এলএসডি খাদ্য গুদাম পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে এ সব গুদাম নির্মাণ করা হলেও কোন কাজে আসছে না।
খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বিভাগের ৪০ উপজেলায় ৬৭টি এলএসডি গুদাম রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় এক যুগ ধরে ২৩ গুদাম অব্যবহূত অবস্থায় রয়েছে। ব্যবহার নেই বলে নেই কোন জনবল। আগে এ সব গুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, এলএসডিসহ বেশ কয়েকটি পদে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা কাজ করতেন। গুদামগুলোতে শুধু খাদ্য বিভাগের পাহারাদার রয়েছে। গুদামে পাহারা দেয়ার নামে বসবাস করা ছাড়া তাদের আর কোন কাজ নেই।
১৯৮৪ সালে খাদ্য সংগ্রহের জন্য উপজেলা পর্যায়ে এ সব গুদাম নির্মাণ করা হয়। ১০ শতাংশ জমির উপর ৫’শ টন ধারণ ক্ষমতার একেকটি গুদাম নির্মাণে ব্যয় হয়েছে কোটি টাকার উপর। এর মধ্যে ৫টি গুদাম এক হাজার টন ধারণক্ষমতার গুদাম নির্মাণে ব্যায় হয়েছে ২ কোটি করে। খাদ্যবিভাগ জানায়, তখন সরকার ধান-চাল সংগ্রহ করে এ সব গুদামে সংরক্ষণ করতো। একইভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের বিপরীতে গম-চাল এ সব উপজেলায় গুদাম থেকে সরবরাহ করা হতো। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বরগণ গম চাল উত্তোলন করে প্রকল্পের কাজে বিতরণ করতে পারতেন। সংস্কার করে এ গুদামগুলো সচল বা কোল্ড স্টোরেজে রূপান্তরিত করলে হাজার হাজার কৃষক লাভবান হবে।
খাদ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক স্বপন কৃষ্ণ বণিক জানান, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি রাস্তাঘাটের দুরবস্থা, বিদ্যুত্ কিংবা আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ উপজেলার এলএসডি গুদাম অব্যবহূত রয়েছে। অব্যবহূত গুদামের মধ্যে পটুয়াখালী জেলায় রয়েছে ১০টি। ঐ জেলার ব্যবসা ও কৃষি সফল উপজেলা হিসাবে পরিচিত বাউফলের কালাইয়া ও বগা গুদাম দু’টি সচল রয়েছে। ভোলার ৭ উপজেলার মধ্যে চরফ্যাশন উপজেলায় শশীভূষণ গুদামটি ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়াও বরগুনায় ৫টি, বরিশাল জেলায় ১টি ও পিরোজপুরে ১টি গুদাম অব্যবহূত অবস্থায় আছে।