কাঁদছে ভেনেজুয়েলা

ভেনিজুয়েলার সদ্য প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজকে আজ শুক্রবার দেশটির রাজধানী কারাকাসের সামরিক একাডেমিতে সমাহিত করা হবে। তার শেষকৃত্যও সম্পন্ন হবে আজই। বুধবার তার কফিন নিয়ে শোকযাত্রা বের করে হাজার হাজার মানুষ। এ সময় আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া এবং উরুগুয়ের প্রেসিডেন্টসহ তার ভক্তরা উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় শ্যাভেজের ভক্তদেরকে তার ছবি আঁকা টি-শার্ট পরতে দেখা গেছে। সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ সামরিক একাডেমিতে রাখা হয়। এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের প্রধান জেনারেল জোসে অরনেলা বলেন, বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকে শ্যাভেজের মৃত্যু হয়েছে। তিনি মৃত্যুর আগে বাঁচার জন্য কাঁদছিলেন। অরনেলার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, শ্যাভেজ কথা বলতে পারছিলেন না। কিন্তু ঠোঁট নেড়ে বলছিলেন, আমি মরতে চাই না। আমাকে মরতে দিও না। মৃত্যুতে ভেনিজুয়েলায় চলছে শোকের মাতম। জাতীয় পতাকা ও প্রিয় নেতার ছবি হাতে রাস্তায় নেমে এসেছে হাজারো মানুষ। প্রায় দু’বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মঙ্গলবার রাজধানী কারাকাসের একটি সামরিক হাসপাতালে মারা যান ৫৮ বছর বয়সী শ্যাভেজ। প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কারাকাসের রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। তারা শ্লোগান দিতে থাকেন- শ্যাভেজ আছে, থাকবে/বিপ্লব চলবে। কারাকাসের যে সামরিক হাসপাতালে শ্যাভেজের মৃত্যু হয় তার বাইরে সারারাত অবস্থান করে শোকার্ত জনতা। প্রিয় নেতার ছবি হাতে অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয় শ্যাভেজের বিভিন্ন সময়ের ভাষণ। তার বিভিন্ন সময়ের ছবিও একের পর এক ভেসে ওঠে টেলিভিশনের পর্দায়। শ্যাভেজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কারাকাসের বাসিন্দা ন্যান্সি জ্যোতি (৫৬) বলেন, “তিনি ছিলেন আমাদের জনক। কিভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হয় তা তিনিই আমাদের শিখিয়েছিলেন।” “শ্যাভেজের চেতনা শেষ হয়ে যায়নি। আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো।” শ্যাভেজের চেতনাই আগামী দিনগুলোতে ভেনিজুয়েলাকে পথ দেখাবে উল্লেখ করে দেশটির কংগ্রেস প্রধান দিওসদাদো ক্যাবেলো বলেন, “কাউকে বোঝানোর চেষ্টা করো না যে, শ্যাভেজ চলে গেছেন। তিনি সবসময়ই আমাদের সঙ্গে থাকবেন।” তাঁর মৃত্যু ছুঁয়ে গেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও। গত অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শ্যাভেজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান হেনরিক ক্যাপরিলস। এক শোকবার্তায় শ্যাভেজের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু কখনো আমরা শত্রু ছিলাম না।” ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে শ্যাভেজের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর চারদফা কিউবায় অস্ত্রোপচার হয়। চতুর্থ দফা অস্ত্রোপচারের পর দেশে ফেরেন ফেব্রুয়ারির শেষদিকে। ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণকারী হুগো শ্যাভেজ সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন ছত্রীসেনা বা প্যারাট্রুপার হিসাবে। ১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দেশকে অনেকদূর এগিয়ে নেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্র নীতিতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা আর দেশে দরিদ্রবান্ধব নীতি অবলম্বন করেন।