ব্যবসায়ী জামাল হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০১৩, ২২:০১
ব্যবসায়ী জামাল হোসেন হত্যা মামলায় দুই সহোদরের মৃত্যুদণ্ড ও লাশ গোপন করতে সহায়তা করায় তাদের মায়ের ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ মো. মোজ্জাম্মেল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, দুই সহোদর মো. তাছের মাতুববর ও মো. আলমগীর হোসেন ওরফে বাসের। এছাড়া তাদের মা জেলখা ওরফে জুলেখাকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই সহোদরের বাবা মো. ফটিক মাতুব্বর ওরফে ফরিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই পলাতক। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আলমগীর ও জুলেখা শুরু থেকেই পলাতক ও তাছের ঘটনার পরপর গ্রেফতার হলেও মামলার বিচারের শেষ পর্যায়ে যুক্তিতর্কের আগে তিনি জামিনে থেকে পলাতক হন। তাছের ও বাসের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার পূর্ব আজলবেড়া গ্রামের এ মামলায় খালাস পাওয়া ফটিক মাতুব্বর ওরফে ফরিদের ছেলে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বীরগাঁও গ্রামের মৃত কাজী মাত্তু মিয়ার ছেলে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী নিহত জামাল হোসেন ঢাকার কোতয়ালী থানাধীন ইসলামপুরে ডাইস ক্যামিক্যাল, বাইন্ডিং এবং স্কুল ব্যাগের ব্যবসা করতেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তাছের ছিলেন তার কর্মচারী। ভাইকে বিদেশে পাঠানোর জন্য তাছের জমি বিক্রি করতে চাইলে নিহত জামাল হোসেন জমি কেনার জন্য ২০০৮ সালের ২৩ মে ফরিদপুর যান। সেখানে দণ্ডপ্রাপ্তরা তাকে জমি দেখানোর জন্য নিয়ে গিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। হত্যার পর জমি কেনার জন্য নেয়া দেড় লাখ টাকা নিয়ে লাশ পাটক্ষেতে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ঐ বছরের ১২ জুন রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।