হরতালে মংলা বন্দরে আটকা পড়েছে ৭শ’ কোটি টাকার পণ্য
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৬
চার দিনের হরতালে মংলা বন্দরে আমদানিকৃত তিন শতাধিক কন্টেইনার মেশিনারিজ, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক্স মালামালসহ প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য সামগ্রী আটকা পড়েছে। এছাড়াও হরতালে যানবাহন চলাচল না করায় বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য আমদানিকারকরা নিতে পারছেন না। এমনকি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার উদ্দেশে কয়েকশ’ কোটি টাকা মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি বন্দর ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আটকা পড়েছে। ফলে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে মংলা বন্দর আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। অপরদিকে আমদানি ও রপ্তানিকারকসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, সামনে এমন অবস্থা আরো চলতে থাকলে এ বন্দরে আমদানি-রপ্তানির বাজারে বড় ধরনের ধস নামবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, দেশব্যাপী টানা তিনদিন হরতালের পর একদিনে বিরতি দিয়ে আবার গতকাল বৃহস্পতিবারের হরতালে সড়ক পথে পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। যদিও হরতালে মংলা সমুদ্র বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য খালাস ও বোঝাই কাজে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। তবে এ বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য ও কন্টেইনার সড়ক পথে পরিবহন করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বন্দরের কন্টেইনার ইয়ার্ডে আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই তিন শতাধিক কন্টেইনার নেয়ার অপেক্ষায় গতকাল পর্যন্ত পড়েছিল।
অপরদিকে হরতালের কারণে এখন পর্যন্ত রপ্তানিজাত চিংড়ির অর্ধেকও বন্দরে পৌঁছেনি। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ট্রাফিক ম্যানেজার জানান, আজ শুক্রবার এ বন্দরে রপ্তানিজাত চিংড়ি পরিবহনের জন্য একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এ জাহাজে শতাধিক কন্টেইনারে হিমায়িত চিংড়ি যাবে। কিন্তু হরতালের কারণে বন্দরে আসতে না পারা আরো রপ্তানিযোগ্য হিমায়িত চিংড়ি খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে পড়ে আছে। বাগেরহাটের লকপুর গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জেনারেল ম্যানেজার শফিউল্ল¬াহ খান মিলন জানান, হরতালে এ অঞ্চলের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা মূল্যের চিংড়ি মংলা বন্দর পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। মংলা বন্দরে জাহাজের সিডিউল থাকলেও কবে নাগাদ এ চিংড়ি পৌঁছানো এবং এ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মংলা সিমেন্ট মিলসের নির্বাহী পরিচালক কমান্ডার হাফিজুর রহমান জানান, প্রতিদিন এখানে দেড় থেকে দুই হাজার টন সিমেন্ট রপ্তানি হত। হরতালের কারণে এ কয়েকদিনে তা এক চতুর্থাংশে নেমে এসেছে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বহির্নোঙ্গর ও জেটিতে আসা বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য খালাস ও বোঝাই স্বাভাবিক গতিতে চলছে । তবে এ কার্যক্রম চললেও সড়ক পথে আমদানি ও রপ্তানিজাত পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এদিকে হরতালের কারণে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা মংলা ইপিজেডে পণ্যবাহী কয়েকশ’ ভারতীয় ট্রাক বের হতে পারেনি।