‘আর্থিক স্বার্থের জন্য মামলা দীর্ঘায়িত করা হয়’
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৩, ১৫:৪০
আইন ও সালিস কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সমপ্রতি ঢাকার এলজিইডি ভবনে “নিরাপদ ও নিঃশঙ্ক জীবনের পথেঃ পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০-এর প্রয়োগের দুই বছর” বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করে। এ কর্মশালায় বক্তারা বলেন, পারিবারিক সহিংসতা রোধে এ আইনটি একটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য আইনটির বিধিমালা চূড়ান্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট স্টকহোল্ডারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা এবং পর্যালোচনার উপর আরও গুরুত্ব দেয়া জরুরী। তাছাড়া মনিটরিং বৃদ্ধি এবং এই আইনের অধীনে প্রাপ্য অধিকার ও প্রতিকার বিষয়ে জনসচেতনতা কিভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায় সেক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন ।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, বর্তমান সময়ে আইনজীবীরা নিজেদের আর্থিক স্বার্থের জন্য মামলা দীর্ঘায়িত করে। আইনজীবীরা যদি অনর্থক সময়ের পর সময় না নিয়ে মামলা চালিয়ে যান তাহলে মামলার সংখ্যা দ্রুতই কমে যাবে।
সূচনা অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ তার বক্তব্যে বলেন, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা) আইন একটি যুগোপযোগী এবং স্পর্শকাতর আইন। তাই আমাদের দেখতে হবে আমরা এমন একটি স্পর্শকাতর আইন গ্রহণ করতে প্রস্তুত কিনা এবং আইনটিকে সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য করার জন্য ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন। ্এমনকি নারী কোন পর্যায়ে বা কোন অবস্থায় অপমানিত হচ্ছে তাও বিচারকদেরকে বুঝতে হবে।
সমাপ্তি অধিবেশনের সভাপতি আইন ও সালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল তার বক্তব্যে বলেন, পারিবারিক সহিংসতা বহুদিন ধরেই আমাদের কাছে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত বা স্বীকৃত ছিল না। তাই নারীদের সবসময় মুখ বুজে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। নারীকে নিজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সকল ব্যবস্থা নিজেকেই নিতে হয়। সারাক্ষণ শঙ্কা এবং সারাক্ষণ জবাবদিহিতায় থাকার যে মানসিক প্রতিবন্ধকতা তা একজন নারী ছাড়া কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্প -এর প্রকল্প পরিচালক ও উপসচিব ড. আবুল হোসেন বলেন, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনের বিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করার জন্য সকল কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে। তিনি আইনটির কার্যকরী প্রয়োগের অন্তরায় হিসেবে এই খাতে সরকারের বাজেট স্বল্পতার কথাও তুলে ধরেন।
ব্লাস্টের অনারারী নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আইনের প্রয়োগ কোথায়, কিভাবে হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য একটি নির্ণায়ক আমাদের ঠিক করে দেয়া দরকার। পাশাপাশি যারা আইনটি প্রয়োগের কাজে নিয়োজিত আছে তাদের প্রশিক্ষণ কেমন দেয়া হচ্ছে, অবকাঠামোগত কি কি সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে সেগুলোর দিকে লক্ষ্য দিতে হবে।