মিয়ানমারে রাখাইন সংকট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গতবছর শুরু হওয়া জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া এবং দেশটিতে চলমান গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন জাতিসংঘ তদন্ত কর্মকর্তা টমাস ওজেয়া কুইন্টানা। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে মিয়ানমার সম্পর্কিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, মিয়ানমারের উচিত বাদবাকী ২৫০ রাজবন্দিকে মুক্তি দেয়া, পুলিশী নির্যাতন বন্ধ করা এবং জাতিগত সংঘাতের মূল কারণ খুঁজে দেখা। মিয়ানমারে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সংস্কার কর্মসূচি এবং মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়নের মধ্যে বিরাট ব্যবধান রয়েছে উল্লেখ করে কুইন্টানা বলেন, “রাখাইন রাজ্য গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সঙ্কট দেশের অন্যান্য অংশে বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং এতে করে দেশের পুরো সংস্কার প্রক্রিয়াই ক্ষুণ্ন হতে পারে।” মিয়ানমারে ২০১১ সালে নতুন আধা-বেসামরিক সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর একের পর এক সংস্কার কর্মসূচি নিচ্ছে। কুইন্টানা গত মাসে ৫ দিনের মিয়ানমার সফরে গিয়ে মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চিসহ রাখাইন ও কোচিন রাজ্যে জাতিগত সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষদের সঙ্গে দেখা করেন। গত বছর জুন এবং অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যে রাখাইন বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মিয়ানমারে সংস্কারকাজ সঠিক পথে এগুলেও ওই দুই রাজ্যে মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এখনো কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন কুইন্টানা। আর এ সমস্ত কারণে সস্কার প্রক্রিয়া যাতে বিপন্ন না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক করেন তিনি।