খুলনায় জমি বন্দোবস্ত নেয়ার উদ্যোগ পর্যটন করপোরেশনের

খুলনা মহানগরীতে পর্যটক উপযোগী আধুনিক এপ্লিকেশন হোটেলসহ ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। এ জন্য নগরীর মুজগুন্নী এলাকায় ৪.৬৭ একর জমি বন্দোবস্ত নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে খুলনাঞ্চলের মানব সম্পদের উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটন সুবিধার প্রসার এবং বহু লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে পর্যটন করপোরেশন। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে জমি বরাদ্দ পাওয়ার উপর। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র সুন্দরবনসহ অনেক ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি এবং স্বাধীনতার স্মারকচিহ্ন বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু বড় ধরনের তেমন কোন হোটেল, মোটেল এবং কমপ্লেক্স গড়ে না ওঠায় এ অঞ্চলে আশানুরূপভাবে পর্যটনের বিকাশ ঘটেনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটন করপোরেশন এখানে পর্যটক উপযোগী আধুনিক মানের একটি এপ্লিকেশন হোটেলসহ ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন ও শপিং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর অংশ হিসাবে করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুল হাসান খান (অতিরিক্ত সচিব) গত ৩ ফেব্রুয়ারি খুলনার জেলা প্রশাসকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি পত্র প্রেরণ করেন যাতে নগরীর মুজগুন্নী মৌজায় ৪.৬৭ একর জমি প্রতীকী মূল্যে পর্যটন করপোরেশনের অনুকূলে দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত চাওয়া হয়েছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক আবেদিত জমি প্রাপ্তির ব্যাপারে বেশ জটিলতা রয়েছে। এর কারণ হিসাবে সূত্রটি জানায়, পাকিস্তান আমলে ১৯৬৮-৬৯ সালে নগরীর মুজগুন্নী মৌজার ৪.৬৭ একর জমি জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ৪ লাখ ৪২ হাজার ১৭৩ টাকায় তত্কালীন পাকিস্তান সার্ভিসেস লিমিটেড গ্রহণ করে। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দীর্ঘ বছর জমিটি অব্যবহূত থাকায় পর্যটন করপোরেশন সেখানে হোটেল নির্মাণের জন্য ১৯৮২ সালে বর্তমান বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডকে (সাবেক পাকিস্তান সার্ভিসেস লিমিটেড) ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করে ‘সার্টিফিকেট অব পজিশন’ এর মাধ্যমে জমির দখল নেয়। এরপর জমিটি পর্যটন করপোরেশনের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে এসএএন্ডটি এ্যাক্টের মাধ্যমে পর্যটন করপোরেশনের নাম ও সম্পূর্ণ অংশ কর্তন করে জমিটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত হয়ে জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। উক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ওই জমির মালিকানা পর্যটন করপোরেশনের অনুকূলে ন্যস্ত করার জন্য খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসক ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী জমির মূল্য বাবদ ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৬৫ হাজার ১০৪ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে পর্যটন করপোরেশনের নামে বন্দোবস্ত প্রদানের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ প্রেরণ করেন। এ অবস্থায় ‘পর্যটন করপোরেশনের পক্ষে এত অধিক মূল্য প্রদান সম্ভব নয়’ উল্লেখ করে প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ পেতে গত বছরের ১৪ ও ২৬ জুন এবং ২৩ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসককে ‘তাগিদ পত্র’ দেয়া হয়। কিন্তু কোন অগ্রগতি জানতে না পেরে সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি পুনরায় পত্র দেয়া হয়। বিষয়টি সিটি মেয়র এবং বিভাগীয় কমিশনারকেও অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার (প্লানিং) খালেদ বিন মজিদ বলেন, খুলনাঞ্চলে পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যে এখানে পর্যটক উপযোগী আধুনিক একটি এপ্লিকেশন হোটেলসহ ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন ও শপিং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খুলনাঞ্চলের মানব সম্পদের উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটন সুবিধার প্রসার এবং বহু লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তবে পুরো বিষয়টি জমি বরাদ্দ পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।