চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায় এক-চতুর্থাংশে দাঁড়িয়েছে

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আদায় কমে গেছে। হরতালের কারণে গত দুইদিনে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার এক চতুর্থাংশের নীচে নেমে গেছে। বিশেষ করে গত কিছুদিন ধরে দেশে হরতাল, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুরসহ ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম কাস্টমসে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কোন পণ্য খালাস হচ্ছে না। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যের পাহাড় জমছে। বিভিন্ন প্রাইভেট আইসিডিগুলোতেও কন্টেইনারের স্তূপ পড়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, হরতালের কারণে গত রবিবার রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১১৬ কোটি টাকা। একইভাবে সোমবার রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৮ কোটি টাকা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০০ কোটির টাকার বেশি। চট্টগ্রাম কাস্টমসের হিসাবে দেখা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরের গত জুলাই থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। কিন্তু রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। ফলে প্রায় আট মাসে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শিল্পের কাঁচামাল এবং ক্যাপিটাল মেশিনারি আটকা পড়ায় শিল্প উত্পাদন এবং কর্মসংস্থানে নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সরকারের জাতীয় অর্থনীতিতে ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার জনগণের নিত্য ব্যবহার্য এবং আমদানি পণ্য বন্দর থেকে খালাস না হওয়ায় বাজারে পণ্যের দাম ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে। রাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। এতে করে অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদারদের পোয়াবারো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিমত দিয়েছেন। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, বর্তমান সরকারের শেষ বছরে আগামী দিনগুলোতে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কম বেশি থাকবে। এতে করে রাজস্ব আদায়সহ আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাজস্ব আদায়ও কমে যাবার আশংকা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।