রাদারফোর্ডের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি

নিয়মিত ওপেনার মার্টিন গাপটিল ওয়ানডে সিরিজে ইনজুরিতে না পড়লে এই টেস্টে খেলাই হতো না হামিশ রাদারফোর্ডের। তবে প্রথম সুযোগটাকেই দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে বুঝিয়ে দিলেন ক্রিকেটের এই অভিজাত ক্ষেত্রে সহজেই হারিয়ে যেতে চান না তিনি। গতকাল ডানেডিনে ইংলিশ বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে এই ব্যাটসম্যান তার টেস্ট অভিষেকেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। রাদারফোর্ডের ১৭১ রানের ঐতিহাসিক অভিষেক সেঞ্চুরিতে সফরকারি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ২৩৫ রানের বড় লিড নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। গতকাল শুক্রবার ডানেডিনে টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকরা সাত উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৪০২ রান। অভিষেকের আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে রাদারফোর্ডকে বারবারই শুনতে হয়েছে তার বাবার কথা। ক্রিকেট ইতিহাসে বিখ্যাত কেউ না হলেও সবাই কেন রাদারফোর্ডকে মনে রেখেছে অন্য এক কারণে। সেই সময়কার প্রবল প্রতাপশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষিক্ত কেন তার প্রথম সাত ইনিংসে বলতে গেলে রানই করতে পারেননি। আর অভিষেকে তাকে দেখতে হয় জোড়া শূন্যের মুখ। তবে বাবার সেই ভয়ানক অভিষেক স্মৃতিতে হামিশ যে মোটেই ভীত নন সেটি টের পাওয়া গিয়েছিল টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই। বাউন্ডারির ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে অপরাজিত ছিলেন ৭৭ রানে। গতকাল ঠিক সেই জায়গা থেকেই শুরু করেন রাদারফোর্ড। তাই দিনের মাত্র নবম ওভারে আরেক ওপেনার পিটার ফুলটন বিদায় নিলেও তার অভাব একদমই অনুভব করেনি ব্লাক ক্যাপসরা। ফুলটনের বিদায়ের পরের ওভারেই স্টিফেন ফিনকে দারুণ এক ড্রাইভে সীমানা ছাড়া করে রাদারফোর্ড পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। সেঞ্চুরির পরে আরো আগ্রাসী হয়ে ওঠে রাদারফোর্ডের ব্যাট। মন্টি পানেসারকে উড়িয়ে মেরে পৌঁছে যান দেড়শ রানে। ১৬৬ রানে অপরাজিত থেকে যখন লাঞ্চে যান তখন তার ডাবল সেঞ্চুরিটাকে সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল। তবে বিরতির ঠিক পরপরই অ্যান্ডারসনের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে বিদায় নেয়ার আগে খেলেন ১৭১ রানের দারুণ এক ইনিংস। যা কিনা অভিষেকে সপ্তম সর্বোচ্চ ইনিংস এবং ওপেনার হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রাদারফোর্ডের বিদায়ের পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। তবে টেইলর, উইলিয়ামসনদের ছোট ছোট কয়েকটি ইনিংসে এরই মধ্যে চারশো পেরোয় তারা। দিন শেষে ৪৪ অপরাজিত থাকেন ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম। তার সঙ্গে ১৭ রানে খেলছিলেন মার্টিন। ইংলিশদের পক্ষে অ্যান্ডারসন নেন চারটি উইকেট। এর আগে বৃষ্টিতে প্রথম দিন ভেসে যাওয়ার পরে দ্বিতীয় দিনে ইংল্যান্ডকে তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৬৭ রানে গুটিয়ে দেয় কিউইরা।