ফুলছড়ির নারী শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না

ফুলছড়ি এলাকায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পুরুষ শ্রমিকদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নারীরা কাজ করলেও প্রায় সর্বক্ষেত্রেই তারা মুজরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধানের চারা রোপণ, পরিচর্যা, সার-কীটনাশক ছিটানো, ধান কাটা-মাড়াইসহ সব কাজই এখন করছেন নারীরা। এছাড়া গ্রামের আঁকা-বাঁকা রাস্তায় মাটি কাটার কাজ, সড়ক নির্মাণ, দালানকোটা নির্মাণসহ ইট ভাঙ্গার কাজও করছেন তারা। কারো ঘরে স্বামী অসুস্থ, কারো স্বামী পঙ্গু, কারো স্বামী নেশাগ্রস্ত আবার অনেক নারীই হয়েছে বিধবা। ৮ ঘন্টা কাজের বিনিময়ে তিনবেলা খাওয়াসহ ৮০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। রাস্তায় মাটি কাটার কাজে মহিলা শ্রমিকরা পুরুষের সমান কাজ করেও মজুরি পায় পুরুষের চেয়ে অনেক কম। বিশেষ করে ধানকলের শ্রমিকদের চেয়ে একজন মহিলা শ্রমিক মজুরি পায় প্রতিদিন ৫০ থেকে ৮০ টাকা কম। বাউশি বালুচর গ্রামের মনোয়ারা বেগম (২৮) জানান, সারাদিন পুরুষ শ্রমিকদের সঙ্গে চাতালোত ধান শুকানো, ধান তোলা এবং ধান ঝাড়ার কাজ ৮ ঘন্টা করেও মজুরি পাচ্ছেন ৮০ টাকা। আর পুরুষ শ্রমিক পাচ্ছে ১৫০ টাকা। এ সবের প্রতিবাদ করতে গেলেই কাজ হারাতে হবে বাধ্য হয়েই শ্রম শোষণকে তিনি মেনে নিচ্ছেন বলে জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার ইউসুফ রানা মন্ডল জানান, নারী শ্রমিকরা কৃষি কাজে এগিয়ে আসছেন। পুরুষ শ্রমিকরা যতটুকু শ্রম দিচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি শ্রম দিচ্ছে নারীরা। আমন মৌসুমে রোপা-আমন চাষে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি অবদান রাখেন নারী শ্রমিকরা। উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের টিএনটি এলাকার নারী শ্রমিক সন্ধ্যা রাণী বলেন, হামরা স্থানীয় এনজিও’র অধীনে মাটির কাজ করিয়া মজুরি পাই ১৮০ টাকা। আর পুরুষ শ্রমিকরা অন্যস্থানে মাটি কাটিয়া পাচ্ছে ২০০ টাকা মজুরি। তার কথার সাথে সুর মিলালেন টুলটুলি, ইয়ারন, মনোয়ারা বেগমসহ আরো অনেকে। ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনোতোষ রায় মিন্টু বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে বরাবরই শ্রম মজুরি নিয়ে বৈষম্য হচ্ছে। এ বৈষম্য দূর করে সমান অধিকার হওয়া দরকার নারীদের জন্য। উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাক্কামাম মাহামুদা জানান, নারী শ্রমিকরা পুরুষ শ্রমিকদের সমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রম দিলেও তাদের কম বেতন দেয়া হয়। তারা বেতন বৈষম্যের শিকার।