হরতাল-অবরোধে ঈশ্বরদীতে শিমের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না

লাগাতার হরতাল ও অবরোধে ঈশ্বরদীর শিম চাষীরা চরম বেকায়দায় পড়েছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ঈশ্বরদীর মূলাডুলি সবজি আড়ত্ কয়েকদিন আগেও ক্রেতা-বিক্রেতার পদভারে মুখরিত ছিল। প্রতিদিন ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত মুলাডুলিতে চলেছে শিম কেনা —বেচা। প্রায় কোটি টাকার শিম এখানে প্রতিদিন কেনা-বেচা হয়েছে। সেই মুলাডুলি আড়ত্ এবং শহরের আমবাগান এলাকার পাইকারী বাজার এখন ক্রেতা শুন্য। চাষিরা প্রতিদিন শিম নিয়ে মুলাডুলিতে এসে ক্রেতা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে। ফেরত নিয়ে যাওয়া শিম উপায়ান্তর না পেয়ে চাষীরা শেষ পর্যন্ত গরু দিয়ে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছে। শহীদ আমিন পাড়ার জুলহাস বৃহস্পতিবার সকালে শহরের আমবাগানে অনেক আশা করে ২ মণ শিম বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছিলেন। কেনার কোন লোক না পেয়ে আবারও ভ্যানের ভাড়া দিয়ে ফেরত নিয়ে যান। এইভাবে প্রতিদিনই শত শত মণ শিম চাষিরা ডাবল ভাড়া প্রদান করে ফেরত নিয়ে যাচ্ছে। জুলহাস জানান, হরতালের কারণে ভ্যান, পাওয়ার ট্রলির ভাড়া দ্বিগুণ। দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে একবার নিয়ে গিয়ে আবার ডাবল ভাড়া দিয়ে ফেরত আনতে হচ্ছে। কৃষকরা জানায়, প্রতিদিন এই হাটে ৮০ থেকে ১০০ ট্রাক শিম বাজারজাত হয়। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিম চালান হয়। ঈশ্বরদীর মূলাডুলি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া, নাটোরের বড়াইগ্রাম ও লালপুরের ২০ হাজার মানুষ এখন শিম চাষের সাথে সরাসরি জড়িত। এক কথায় চাষী, আড়ত্দার, ব্যাপারী ও ব্যবসায়ীদের সরব উপস্থিতিতে মুখরিত থাকে মুলাডুলি ও ঈশ্বরদীর আড়ত্ এলাকা। আড়ত্দার সমিতির আমিনুর রহমান বাবু ওরফে শিম বাবু জানান, শিম কেনা-বেচার কাজে মূলাডুলি সবজি আড়তে প্রতিদিন প্রায় ১২’শ শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।