বঙ্গোপসাগরে ১৩টি
ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৭
বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার এলাকার বিভিন্নস্থানে বুধবার ও বৃহস্পতিবার কমপক্ষে ১৩টি ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। জলদস্যুরা গুলি করে কয়েকটি ট্রলার ছিনতাই করেছে। গুলিবিদ্ধ ২৭ জন জেলেকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলেসহ কয়েকটি ট্রলার নিখোঁজ রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার এলাকায় জলদস্যুরা ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে। জেলেরা মাছ ধরার সময়, মাছ ধরে ফেরার সময় এবং মাছ ধরতে যাওয়ার সময় বঙ্গোপসাগরের ১৪ বিউ এলাকা, গুলীদ্ধার, কুতুবদিয়া চ্যানেল, সোনাদিয়াসহ বিভিন্নস্থানে অন্তত ১৩ ফিশিং ট্রলার জলদস্যুতার শিকার হয়।
তিনি জানান, জেলেদের লক্ষ্য করে জলদস্যুরা গুলিবর্ষণ করে ফিশিং ট্রলার থামায় এবং অস্ত্রের মুখে মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে জাল, জ্বালানি তেল, দামি যন্ত্রাংশ ও নগদ টাকাসহ সর্বস্ব লুট করে। পরে বিকল ট্রলারটি সাগরে ভাসিয়ে দেয়।
তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে সাগরে অন্য ট্রলার পাঠিয়ে জলদস্যুদের হাতে গুলিবিদ্ধ ২৭ জেলেসহ মোট ১৪৫ জেলেকে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময় সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৩টি ট্রলারসহ অর্ধশতাধিক জেলে নিখোঁজ রয়েছে।
জানা যায়, গুলিবিদ্ধ জেলেদের মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল বিন্দাপাড়ার সাইফুল ইসলামের ছেলে হারুনুর রশিদ (২৩), কৈয়ারবিল মলমচর গ্রামের শরবত আলীর ছেলে হেলালউদ্দিন (৩২), দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের আবদুল খালেকের ছেলে শামীম (২৪), লেমশীখালী ইউনিয়নের মোজাফফরের ছেলে মো. নয়ন (২৮), মহেশখালীর আনছার (৪৫), হাসান শরীফ (২৬), সোলতান (৪০), মীর কাশেম (২৪), আলী (৪০), আবদুল খালেক (৩০), আব্দুর রশিদ (৩৪), নূরুল ইসলাম (৩৫), মোহাম্মদ কাসিম মাঝি (৪০) ও পেঠান আলী (২৮)। অপর ১৩ জনকে মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের নাম জানা যায়নি।
ট্রলার মালিক সমিতি সূত্র মতে জলদস্যুদের শিকার ট্রলারগুলো হল কুতুবদিয়ার মোহাম্মদ ইলিয়াছের মালিকানাধীন এফবি আল্লাহর দান, জাগির হোসেনের মালিকানাধীন এফবি মা-বাবার দোয়া, কক্সবাজার শহরের নজির কোম্পানির ট্রলার এফবি জাভেদ, শহরের নতুন বাহারছড়ার মোহাম্মদ ছিদ্দিক কোম্পানির মালিকানাধীন এফবি নার্গিস ও এফবি আবির, কতুবজুম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গার মান্নানের মালিকাধীন এফবি শাহ আমানত, কুতুবজুমের খোন্দাকার পাড়ার রহমতউল্লাহর ট্রলার, কামিতার পাড়ার ইউনুছ মাঝির ট্রলার, ছোট মহেশখালী ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার মালিকানাধীন এফবি এস্তফা, পেশকার পাড়ার আবদুল মাবুদের মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া, খুরুস্কুলের কামাল বহদ্দার ও নূরুল আবসার বহদ্দারের ২টি ট্রলার এবং মেহেরীয়া পাড়ার মোহাম্মদ ছিদ্দিকের মালিকাধীন একটি ট্রলারসহ মোট ১৩টি ট্রলার।