মু খো মু খি
পাওয়ার ভয়েস প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে
সাক্ষাত্কার নিয়েছেন সরলা সৈয়দ
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২২:০২
এ দেশে ক্লোজআপ ওয়ানের মতো রিয়েলিটি শো-এর সফল উদ্যোগ তার নির্দেশনায় শুরু হয়েছিল। বলা যায়, রিয়েলিটি শোয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সফল প্রবর্তক তিনি। সেই সফলতার পথ বেয়ে চ্যানেল নাইনে বর্তমানে পাওয়ার ভয়েস নামের গানের রিয়েলিটি শো পরিচালনা করছেন নির্মাতা তানভীর খান। বর্তমান রিয়েলিটি শোর চর্চাসহ প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন সরলা সৈয়দ
‘পাওয়ার ভয়েস’-এর বর্তমান অগ্রগতি কতদূর?
অনেকখানি। আগামী সোমবার আমরা টপ টেন ফাইনালিস্ট চূড়ান্ত করব। আমরা সেট, বিচারক থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেছি। এ কারণে দর্শকেরাও আমাদের শোটি লুফে নিয়েছে।
কিন্তু একই সাথে অন্যান্য রিয়েলিটি শো গুলোও শুরু হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আপনাদের ভেতরেও কি চ্যানেলে-চ্যানেলে একটি প্রতিযোগিতা চলমান হয় কি না? দর্শকেরাও কী ভাগ হয়ে যাচ্ছে না?
তা তো হয়। এটা এখন শুধু রিয়েলিটি শো না। সব ক্ষেত্রেই এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলমান। তবে এখানে বাছাই প্রক্রিয়ার ওপরেই সবকিছু নির্ভর করছে। অর্থাত্ যেকোনো ট্যালেন্ট বের হলেই সব দর্শক কিন্তু তাকেই দেখা শুরু করে। তখন তা আর চ্যানেল বিচারে হয় না। বিচার হয় পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে। সেদিক দিয়ে আমরা বলব অনেকখানি এগিয়ে। আর এখানে তাই দর্শকদের ঠকানোর কোনো সুযোগ নেই।
‘পাওয়ার ভয়েস’-এর এবারের প্রতিযোগীদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ কী?
মূল্যায়ন দর্শক আর বিচারকেরা বলবেন। আমি শুধু বলব এবারের ছেলেমেয়েরা অনেক মেধাবী, বিশেষ করে কেউ রক গানে, কেউ ক্লাসিক্যাল, কেউ ৫ কবির গানে, কেউ রবীন্দ্র-নজরুলের গানে পারদর্শী হিসেবে আসছে। এবং আমাদের টার্গেট থাকবে, এদেরকে প্রকৃত শিল্পী হিসেব গড়ে তোলার। তাদের আচার-আচরণ থেকে শুরু করে তাদের স্টেজ পারফর্মেন্সের দিকে আমরা বেশি নজর দিচ্ছি।
সেটি কেমন? অধিকাংশ ছেলেমেয়েরা তো রিয়েলিটি শোয়ের পর বেরিয়ে এসে নানা ধরনের হতাশার কথা বলা শুরু করে। এখানেও কী সেই ধারাবাহিকতা থাকবে কি না?
দেখুন এই বিষয়টা মাথায় রেখেই আমরা ছেলেমেয়েদের আগে স্টেজের শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলার চেষ্টা করছি। কারণ হলো বাস্তবতা। আপনারা নিজেরাও জানেন এখনকার অডিও বাজারের কী অবস্থা। সে কারণেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য যাতে ছেলেটি গানেই ক্যারিয়ার গড়তে পারে সেভাবে তাকে মঞ্চের শিল্পী হিসেবে তৈরি করছি আমরা। আমরা অডিও সিডি রিলিজের চেয়ে মঞ্চের দিকে বেশি আলো ফেলানোর চেষ্টা করছি। যাতে প্রফেশনালি তারা হতাশ না হয়ে পড়ে।
‘পাওয়ার ভয়েস’-এর বিচারকের ক্ষেত্রেও একবার পরিবর্তন হয়েছে, হঠাত্ করে সুবীর নন্দী ও মৌসুমীর বিদায়ের কারণটা কী?
এটা আসলে তাদের নিজেদের ব্যস্ততা। তবে তারা শুরু থেকেই পুরো শোটিতে ছেলেমেয়েদের বাছাইয়ের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। তাই আমরা দুজনার কাছেই ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। আর এখন যারা বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন, তারাও দর্শক, ও প্রতিযোগিদের কাছে গ্রহণযোগ্য। সবচেয়ে বড় কথা একটি অনুষ্ঠানের রেসপন্স ভালো হলে তা সবার আগে নির্মাতাই টের পান। তাই ‘পাওয়ার ভয়েস’ আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছূঁয়ে গেছে। এবং আমি মনে করি, আমরা যে সেরা ১০ জন আমরা উপস্থাপন করব, তারা আগামীদিন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিত্ব করবে।
এই রিয়েলিটি শো শেষে তাদের নিয়ে কোনো ধরনের পরিকল্পনা আছে কী না?
এটা নিয়ে এখনই কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে অবশ্যই তারা চ্যানেল নাইনের তারকা হিসেবেই আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা মেধাবী তরুণ বা তরুণী নিজের যোগ্যতায় জায়গা করে নেয়। আমরা তাদের একটা প্লাটফর্মের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এর বাইরে আমাদের নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা তো রয়েছেই।