নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে
এগিয়ে আসতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২২:২৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতি গঠনের সকল কর্মকাণ্ডে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করায় সহযোগিতা করতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়তে সকল কর্মকাণ্ডে নারীর সমান অধিকার প্রয়োজন। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক পুরুষ ও নারীকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, কেবল আইন করে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে উল্লে¬খযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যা অনেক উন্নত দেশেও দেখা যায় না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য উন্নত বিশ্বের সমান নয়, কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন অনেক উন্নত দেশের চেয়ে কম নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় জীবনের সকল পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। তারা পরিবার, অর্থনীতি সমাজ, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড এবং ক্রীড়াসহ সর্বক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করছে। এ বছর নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘নারীর তথ্য পাওয়ার অধিকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তি সুযোগ গ্রহণ করে অনেক নারী ইতিমধ্যে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন। তিনি বলেন, এ পথেই বাংলাদেশ ডিজিটাল দেশ নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রতিটি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সংরক্ষিত আসনে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। প্রায় ৫০ হাজার নারী গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে যা কোন উন্নত দেশেও দেখা যায়নি। আধুনিক নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাসপোর্টে মায়ের নাম অন্তর্ভুক্তির বিধান হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘প্রসূতি মায়ের ছুটি ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সামরিক বাহিনী, পুলিশ, শিক্ষা ও ব্যাংকিং সেক্টর এবং ব্যবসার ক্ষেত্রেও নারীদের অবস্থান সুসংহত করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই নারী সমাজ তার মর্যাদা ফিরে পায়। তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে সাধারণ নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত নারীদের ওপর যে ধরনের সহিংসতা চালিয়েছে তা আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে রয়েছে।’