ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত
জামায়াত নেতা সেলিমসহ
দুইজন গ্রেফতার
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২২:২৭
ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিন এবং উত্তরা থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এদের মধ্যে সেলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তাদেরকে র্যাব-২ কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তেজগাঁও থানায় স্থানান্তর করা হয়।
র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে.কর্নেল জিয়াউল আহসান জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের গার্ডেন রোডে ট্রপিক্যাল হোমসের গুল মহলের (বাড়ি নম্বর ১৯/২) দ্বিতীয় তলার কে-২ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সেলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে র্যাব-২ এর সদস্যরা। ওই বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় মাহমুদুর রহমানকেও। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, ১০টি মোবাইল ফোন সেট, কয়েকটি সিম কার্ড ও লিফলেট আকারের কিছু বই উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনিস জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেলিম ও মাহমুদুরকে র্যাব কার্যালয়ে নেয়া হয়েছিলো। গতকাল শুক্রবার বিকালে তাদেরকে তেজগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দেয়ায় এবং এর ব্যাখ্যা দিতে হাজির না হওয়ায় গত ৬ মার্চ সেলিম উদ্দিন, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদের (এমপি) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই তিনজনকে ২১ মার্চের মধ্যে গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায়ের আগের দিন ৪ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলে জামায়াতের সমাবেশে সেলিম উদ্দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করে বলেন, ‘এটা দলীয় আদালত, এখানে কোনো বিচার চলতে পারে না। একটা রায়ই শেষ নয়। এর পরে বহু প্রক্রিয়া আছে। বিষয়টি হালকাভাবে দেখলে চলবে না। দেশকে গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচাতে হলে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ ওই সমাবেশে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এ ট্রাইব্যুনাল আর এক মুহূর্তও চলতে পারে না।’ তাদের এ বক্তব্য পরের দিন ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি নোটিস জারি করে। তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ঐ নোটিসে। এছাড়া রফিকুল ইসলাম খান গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রেস ব্রিফিং করে ট্রাইব্যুনালের বিচারের বিষয়ে বক্তব্য দেন। সে বিষয়টি আমলে নিয়ে তাকেও হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।