পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনীর উদ্বেগ

পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সেনা প্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি। গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি উন্নতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান তিনি। এদিকে গতকাল শুক্রবার খাইবার এবং ওরাকজাই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সন্দেহভাজন ১১ জঙ্গি নিহত হয়েছে। খবর ডন-এর। সামপ্রতিক সময়ে করাচি ও কোয়েটায় সামপ্রদায়িক হামলা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-জাংভির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সাক্ষাতের আগে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে সেনা কমান্ডারদের ১৫৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে দেশের সামপ্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি আলোচিত হয়। সেনাপ্রধান সেই আলোচনার বিষয়বস্তু প্রেসিডেন্টকে জানান। তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে কেবল এক লাইনের একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন এবং এতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সরকার চাইলে সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে উল্লেখ করে বৈঠকে কায়ানি বলেন, সহিংসতা রোধে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সরকার বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজে লাগাতে পারেনি। এর আগে কায়ানি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার বিষয়টি প্রকাশ্যে বলেছিলেন। সাক্ষাতে সেনাপ্রধান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দলের সশস্ত্র শাখা এবং কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জঙ্গিদের জড়িত থাকাটা সমপ্রতি দেশে সহিংসতা বাড়ার অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া এবং তেহরিক-ই-তালেবানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত অস্ত্রবিরতির বিষয়েও বৈঠকে আলোচিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আইএসপিআর-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামরিক বিষয় ছাড়াও বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।