পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষ: ভবন থেকে পড়ে যুবক নিহত
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২২:২৯
রাজধানীর ফকিরাপুলে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ একটি বাড়িতে শিবির কর্মীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালালে ঐ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। গতকাল শুক্রবার জুম্মা নামাজের পর ২৯/১ পুরানা পল্টনের ১২তলা ‘ঠিকানা’ এ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনে এসএমএস দেখে পুলিশ ধারণা করছে নিহত যুবক শিবিরকর্মী হতে পারে। এর আগে পুরানা পল্টন, বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টাকালে পুলিশ ও র্যাব জামায়াত-শিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভবনটির বাসিন্দারা জানান, দুপুর ২টার দিকে পুরানা পল্টন কালর্ভাট রোডে জামায়াত-শিবির ঝটিকা মিছিল বের করে। পুলিশ ধাওয়া দিলে সেখানে পরপর দু’টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মিছিল থেকে ২৫-৩০ জনের একটি দল অদূরে ‘ঠিকানা’ অ্যাপার্টমেন্টে আশ্রয় নেয়। তাদের মধ্যে নিহত যুবক ভবনের লিফট দিয়ে ১২তলার ছাদে ওঠে যান। উপরে প্লাস্টিকের টিনের সংযোগ ছাদ ভেঙ্গে ওই যুবক দোতলার কার্নিশে পড়ে যান। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন। ‘ঠিকানা’ অ্যাপার্টমেন্টের লিফটম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, নামাজ শেষ হলে ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা ভেতরে ঢুকছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর ২৫-৩০ জন যুবক দৌড়ে ভেতরে ঢুকে যায়। তারা নিচে পার্কিং জোনের বিভিন্ন স্থানে ও নিরাপত্তাকর্মীদের কক্ষে আশ্রয় নেয়। অনেকে লিফট দিয়ে ওপরে ওঠে যায়। তাদেরই এক যুবক ভবনের পূর্বদিকে টিনের শেড ভেঙ্গে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই পুলিশ গিয়ে পুরো ভবন ঘেরাও করে তল্লাশি শুরু করে।
পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান জানান, ভবনটিতে তল্লাশি করে ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নিহত যুবকের বিষয়ে তিনি বলেন, ঐ যুবকের মোবাইল ফোন সেটে বেশ কিছু এসএমএস পাওয়া গেছে।
পল্টন থানার ওসি গোলাম সারোয়ার জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ঐ যুবকের নাম ও পুরো ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তার লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রয়েছে। পুলিশ ওই যুবককে ‘শিবির কর্মী’ বলে দাবি করলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্রশিবির থেকে ঐ যুবকের পরিচয়ের ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।
এদিকে বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদ ঘিরে জামায়াত-শিবিরের নাশকতার আশংকায় সকাল থেকেই সর্তক ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বায়তুল মোকাররম মসজিদ কেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলার জন্য জড়ো হলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা দৈনিক বাংলা, বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট, স্টেডিয়াম গেট, মত্স ভবন, মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকা থেকে শতাধিক লোককে আটক করে। পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা পর্যন্ত মতিঝিল থানায় আটকের সংখ্যা ৫৬ জন এবং পল্টন থানায় আটকের সংখ্যা ৯০ জন।