দেশ ও ঈমান রক্ষা আন্দোলনের সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২২:৩১
ইসলামী ও সমমনা আট দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন জোট ‘দেশ ও ঈমান রক্ষা আন্দোলন’ আগামী সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর পূর্বঘোষিত সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি দিয়েছে। গতকাল বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ওই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জোট নেতৃবৃন্দ। প্রসঙ্গত, শুক্রবার আল্লাহ, রসূল (স.) ও ইসলাম নিয়ে ব্লগারদের কটূক্তির প্রতিবাদে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটসহ রাজধানীর প্রতিটি মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছিল জোটটি। কিন্তু গতকাল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার কারণে তারা পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে ‘দেশ ও ঈমান রক্ষা আন্দোলনের’ আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোসনে কাশেমী বলেন, জুমার নামাজের আগেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বায়তুল মোকাররম মসজিদের আশপাশে আতংক ছড়িয়ে দেয়া হয়। মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয়েছে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীদের পুলিশ গ্রেফতার করার মধ্যদিয়ে সবার মাঝে আতংক ছড়িয়ে দেয়। তিনি অভিযোগ করেন পুলিশ তাদের শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। আজ শনিবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা আহমদ শফির সাথে বৈঠক করে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে মাওলানা কাশেমী বলেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দেয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি দাবি করেন, তারা ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ কোন সহিংস কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করেন না। আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের এক শ্রেণীর লোক অপকর্ম ঘটিয়ে দায়ভার আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, টুপি ও দাড়ি দেখলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমরা কিসের মধ্যে বাস করছি। সমাবেশ করার অনুমতি না দিলে জানিয়ে দেয়া নিয়ম। কিন্তু পুলিশ এক সপ্তাহে কোন টু শব্দটি করেনি। তিনি বলেন, মসজিদের গেট বন্ধ রাখা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, জমিয়তে উলামার মাওলানা গোলাম মহিউদ্দীন, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, খেলাফত মজলিশের মাওলানা শফিক উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।