সংসদে মহিলা আসন এক-তৃতীয়াংশ করা ও সরাসরি নির্বাচন দাবি
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৮
‘জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি ও সরাসরি নির্বাচন চাই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে উদযাপিত হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ উপলক্ষে আয়োজিত গণসমাবেশে বক্তারা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী নারী আন্দোলনের ব্যাপকতা লাভ করলেও নারী পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিপীড়ন- বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের দেশে নারী-পুরুষের বৈষম্য চরমভাবে বিরাজমান। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে হলে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা এক তৃতীয়াংশে উন্নীত করতে হবে এবং এই সকল আসনে সরাসরি নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। যা কিনা পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহাল থাকবে। এ জন্য নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণ করতে হবে এবং নবম সংসদের চলতি অধিবেশনেই এ বিষয়ক বিল সংসদে উত্থাপন করে তা পাস করানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
গতকাল শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ৬৮টি নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের প্ল¬াটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনে গণসমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে এসে শেষ হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম-এর সভাপতিত্বে সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ব্র্যাক-এর প্রতিনিধি চিররঞ্জন সরকার। সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, নারী সংসদ সদস্যদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য এলাকা ও অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে এবং স্থানীয় সরকার বিষয়ক সংবিধানের ধারাগুলো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানদের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দায়িত্ব-বণ্টনের মাধ্যমে পরিকল্পনা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোতে নারী নেতৃত্বের বিকাশের লক্ষ্যে সকল কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সম্পদ ও সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার দিতে হবে জাতিসংঘ ঘোষিত সিডও সনদের ২ ও ১৬-১(গ) ধারার সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। সংবিধানে ’৭২-এর সংবিধানের অসামপ্রদায়িক চেতনার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করারও দাবি জানানো হয়। ‘৭১-এর যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার কাঠামোয় আদিবাসী, প্রতিবন্ধী, দলিত, ট্রান্স-জেন্ডার গ্রুপ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করে সরকার ব্যবস্থায় নারীর সমঅংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা; স্থানীয় সরকার বিষয়ক সংবিধানের ধারাগুলো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগগুলোতে নারী নেতৃত্বের বিকাশের লক্ষ্যে সকল কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করাতে হবে।
গণসমাবেশে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আইন সালিশ কেন্দ্র, স্টেপস টুওয়ার্ড ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, ব্র্যাক, কেয়ার বাংলাদেশ, কর্মজীবী নারী, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ, আইইডি, বাউশি, পল্লী দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন, আওয়াজ ফাউন্ডেশন, প্রিপট্রাস্ট, নারী মৈত্রী, পেশাজীবী নারী সমাজ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, এফপিএবি, সেবা নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক।