সহিংসতার পর শান্ত হয়ে আসছে ঝিনাইদহ
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৭
টানা এক সপ্তাহের জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার পর ঝিনাইদহ শান্ত হয়ে এসেছে। হরিণাকুণ্ডু, কোটচাদপুর ও মহেশপুরে সহিংস ঘটনায় একজন পুলিশ নিহত ও ৩৫ জন পুলিশসহ অন্তত একশ’ জন আহত হয়। এতে পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাগুলোতে প্রায় ১৭ হাজার জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার অতংকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হলে ঝিনাইদহে জামায়াত ও শিবির ভিতরে ভিতরে সংগঠন আরো শক্তিশালী করে। বিভিন্ন সময়ে তারা মিছিল সমাবেশ করার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এরপর তারা ঝটিকা মিছিল শুরু করে।
২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হলে জামায়াত-শিবির সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামে। কোটচাদপুরে প্রায় ৬ হাজার জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা পুলিশের উপর হামলা করে। এতে কোটচাদপুর থানার ওসি মনির উদ্দির মোল্লাসহ ১৫ জন পুলিশসহ ২৫ জন আহত হয়। পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েও তাদের হটাতে পারেনি। তাদের ছোঁড়া ইটপাটকেলের ঘায়ে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়।
১ মার্চ থেকে জামায়াত আরো মারমুখী হয়ে উঠে। তারা ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক তেঁতুলতলা থেকে ছালাভরা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার, চুয়াডাঙ্গা সড়ক বৈডাঙ্গা থেকে সাধহাটি পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এবং কালীগঞ্জ জীবননগর মহাসড়কের পাতবিলা ও খালিশপুরে স’ মিলের মোটা মোটা গাছের গুঁড়ি ও রাস্তার গাছ কেটে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। আর এ সব স্থানে তাদের প্রায় ৫ হাজার নারী কর্মীকে মাঠে নামায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার সুপারদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। আইন-শৃংখলা রক্ষা ও জামায়াতের অপপ্রচার ঠেকাতে সহযোগিতা কামনা করা হয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সাধারণ মানুষের আশংকা যে কোন সময় জামায়াত-শিবির ফের ফুঁসে উঠতে পারে।