রাস্তার ধুলোর কবলে তিন বন্ধুর বাওকুল বাগান
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৭
ভাঙ্গাচোরা ও বেহাল সড়কের ধুলোবালি বাগানের গাছের উপর পড়ে বাওকুলের আবাদ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকশ’ একর জমিতে বাওকুল চাষ করার জন্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে এক টাকাও ঘরে নিতে না পেরে সর্বস্বান্ত হয়েছে তিন বন্ধু। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাঁচগাঁও , তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা এবং তক্তারচালা এলাকার বংকী গ্রামে কুল চাষ করে তিন বন্ধু চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-সখীপুর সড়কের ঐ তিন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে কয়েকশ’ একর জমিতে কুল চাষের ক্ষতির দৃশ্য। দেখা গেছে কুল গাছে কোন ফুল ও ফল ধরেনি। বেহাল ও ভাঙ্গাচোরা সড়কের উপর থেকে ধুলো-বালি গাছের উপর গিয়ে পড়ে লাল হয়ে কুলের আবাদ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে
অনুসন্ধানে জানা গেছে , মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-সখীপুর সড়ক সংলগ্ন এলাকা পাহাড়ি হওয়ায় বিশাল জমি অনাবাদী পড়ে রয়েছে। এলাকার মাটি বিভিন্ন সবজি ও ফল চাষের জন্য উপযোগী বিধায় ঢাকার আব্দুল আমীন (৫০) নামের এক ফল চাষি ও তার দুই বন্ধু মিলে পাঁচগাঁও, পাথরঘাটা এবং বংকী এলাকায় প্রায় কয়েকশ’ একর সরকারি জমি লিজ নিয়ে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন লোকজনের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে বাওকুল চাষ শুরু করেন। গত তিন বছর ধরে এই তিন বন্ধু নিজেদের পুঁজি এবং বিভিন্ন এনজিও ও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বাওকুলের আবাদে ঝুঁকে পড়েন। এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে। বাওকুল চাষি এবং বাগান রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত মোঃ রোমেজ আলী (৫৬) বলেন, তিনটি বাগানে প্রায় ৫০/৬০ হাজার বাওকুল ও আপেল কুলের চারা রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু ভরা মৌসুমেও বাগানে ফুল এবং বাওকুল ধরেনি। কারণ গোড়াই-সখীপুর সড়কের উপর থেকে পিচ ঢালাই এবং ইটপাথর উঠিয়ে রাখার কারণে পুরো রাস্তা এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই রাস্তার উপরের ইটের লাল গুঁড়ো এবং রাস্তার উপরের পুরো ধুলোবালি বাগানের গাছের উপর পড়ে লালচে হয়ে পড়েছে। যার ফলে বাগানের কুল গাছে ফুল এবং ফল ধরেনি। শুধু কুল বাগানেই নয়, হাটুভাঙ্গা, গোড়াই, বেলতৈল, হোসেন মার্কেট, চেয়ারম্যানবাড়ি,বাঁশতৈল,পাঁচগাঁও নয়াপাড়া, তালতলা, পেকুয়া, তক্তারচালা এলাকাসহ ৩০/৩৫ গ্রামের বিভিন্ন ফলের বাগানেও কোন ফুল ও ফল ধরেনি। ফলের বাগান পরিচর্চার কাজে নিয়োজিত ৪০/৫০ জন শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করেও বাগানে কোন ফল ধরাতে পারেনি ।