রংপুর ও সিরাজদিখানে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ প্রতিমা ভাংচুর

শুক্রবার ভোরে রংপুরে একটি মন্দিরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বৃহস্পতিবার রাতে সন্ত্রাসীরা কালী মন্দিরের প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলেছে। খবর আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার। রংপুরঃ রংপুর মহানগরীর আমাশু কুকরুল পূর্বপাড়ায় বুড়িরমাথা মন্দিরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় মন্দিরের ভেতরের জিনিসপত্র, ধর্মীয় বই ও রাজা গোবিন্দর মূর্তি পুড়ে গেছে। পরে এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটেছে। মন্দিরটিতে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হতো। মন্দিরে আগুন দেয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ব্যাপারে মন্দির কমিটির সভাপতি ডা. ধীরেন্দ্র নাথ রায় কোতোয়ালী থানায় মামলা করেছেন। কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল লতিফ খান জানান, মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুর্বৃত্তরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এদিকে শুক্রবার বিকালে আগুনে পুড়ে যাওয়া মন্দির পরিদর্শন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ, কোতোয়ালী থানার ওসি শাহাবুদ্দিন খলিফা। এছাড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনার কলি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মন্দির মেরামতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন। রংপুরের সকল মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি। সিরাজদিখানঃ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের শাসনগাঁও গ্রামের কালী মন্দিরের প্রতিমা ভেঙে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ও মন্দির কর্তৃপক্ষ জানান, শাসনগাঁও গ্রামের ঐ কালী মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গত বুধবার রাত ১২টায় পূজা আরম্ভ করে রাত ৪টায় শেষ করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ঐ গ্রামের পরিমল মন্ডল ও রতন ঢালী বাজার থেকে ফেরার সময় মন্দিরে গেলে কালী প্রতিমা, ডাকিনী, যোগিনী এবং মহাদেব মূর্তির হাত-মাথা ভেঙে পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে মন্দির কমিটির সভাপতি মন্টু চন্দ্র মন্ডলকে ও পরে থানায় খবর দেন। পরে সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল কাসেম ও সিরাজদিখান থানা পুলিশ তা পরিদর্শন করে। এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানার ওসি শেখ মাহবুবুর রহমান জানান, একটি চক্র এই ন্যক্কারজনক কাজ গোপনে করে যাচ্ছে। আমরা তাদের শনাক্তের চেষ্টা করছি। আতঙ্কের কিছু নেই। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড. অজয় চক্রবর্তী, মুন্সীগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি সমরেশ নাথ। মুকসুদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের মন্দির ভাংচুর, বাড়ি-ঘরে আগুন ও লুটপাটের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মুকসুদপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে শনিবার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা অডিটরিয়াম হলে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল কান্তি বোসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান রবিউল আলম শিকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. খায়রুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান মিয়া, পৌর মেয়র সাজ্জাদ করিম মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক শাহ আকরাম হোসেন জাফর, ওসি ফেরদাউছ হোসেন, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হুজ্জাত হোসেন লিটু, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাদল কৃষ্ণ বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, উপাধ্যক্ষ সমীর শাখারী, ইউপি চেয়ারম্যান মিহির কান্তি রায়, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জহির হাসান টিটো, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ শাহরিয়ার বিপ্লব, খৃষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষে অধীর কুমার সাহা প্রমুখ। ভোলায় মানববন্ধন ভোলা উত্তর প্রতিনিধি জানান, শনিবার ভোলার কে জাহান মার্কেটের সামনে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর দুলাল চন্দ্র ঘোষ, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এম ফারুকুর রহমান, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ চন্দ্র দাস, বিশিষ্ট সমাজসেবক গোপাল চন্দ্র সাহা, ভোলা সদর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রভাষক বিপ্লব কুমার পাল প্রমুখ। নোয়াখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া ও উপদেষ্টা গওহর রিজভি নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভি শুক্রবার নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জে সংখ্যালঘুদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় শিল্পমন্ত্রী বলেন, যারা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী না, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, সেই সমস্ত অপরাধীরাই এই তাণ্ডব ঘটিয়েছে। এ ঘটনা একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। উপদেষ্টা গওহর রিজভি বলেন, এ ঘটনা দেশ ও জাতির মাথা নত করে দিয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এদের কোন ধর্ম নেই, বিবেক নেই। এই অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।