শিবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে আগুন
সেচের অভাবে ২৩ হাজার একর ধানী জমিতে ফাটল
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২২:০০
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত-শিবির কর্মীরা পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে হামলা ও আগুন দেয়ার পর থেকে একটানা ১০ দিন বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন থাকায় শিবগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২৩ হাজার একর জমির ইরি-বোরো ধান সেচের অভাবে মরতে বসেছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার কৃষক।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে এবং সরেজমিনে দেখাও গেছে যে, শত শত কৃষক শ্যালো মেশিন বসিয়ে জমিতে সেচ দেয়ার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। গরীব কৃষকরা কোন বিকল্প ব্যবস্থা না করতে পেরে সেচের অভাবে ফাটল ধরা শুকনো জমিতে বসে হা-হুতাশ করছে।
কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগসূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ব্লকে জরিপের জন্য একজন করে সুপারভাইজার পাঠানো হয়েছে। জরিপের পরই ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে।
কৃষক নুমানউর রহমান জানান, এ বছর তিনি ১৫ বিঘা অর্থাত্ ৫ একর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করেন। বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ২ দিন আগে থেকে বিদ্যুত্ না থাকার কারণে ১২ দিন যাবত্ জমিতে সেচ দিতে পারিনি। বর্তমানে সব জমিতে ফাটল ধরেছে।
একই কথা বললেন ঠুঠাপাড়ার কৃষক হুমায়ন, চককীর্তির জমির, কানসাটের এনায়েতুর, সাহাবাজপুরের তসির, সোহবুল, দুর্লভপুরের তোজামেল, বিনোদপুরের বাদলসহ আরো অনেকে।
এদিকে গত ৪/৫ দিন যাবত্ শিবগঞ্জে প্রায় প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে কৃষক সমাবেশ হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কৃষি অফিসার মাহমুদুল ফারুক বলেন, এক সপ্তাহ সেচ বন্ধ থাকলে ধানের জমির তেমন কোন ক্ষতি হবে না। তাছাড়া বিকল্প সেচের ব্যবস্থা করায় সমস্যা আর প্রকট নয়। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম বলেন, আমরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছি। অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুত্ চালু করতে পারবো ইনশাল্লাহ্।