ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে ৬ এপ্রিল ঢাকা ঘেরাও
চট্টগ্রাম অফিস ও হাটহাজারী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২২:১৯
ইসলামের বিরুদ্ধে কুত্সা রটনাকারী ব্লগারদের কঠোর শাস্তি ও সরকারের ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১২ মার্চ উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধন, ১৫ মার্চ শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল, ২২ মার্চ দেশের সব মসজিদ চত্বরে ১ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি ও শানে রেসালত সম্মেলন, ২৫ মার্চ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান। ৬ এপ্রিল দেশের সব জেলা থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করে ঢাকা ঘেরাও করা হবে। লংমার্চে বাধা দিলে পরদিন থেকে লাগাতার হরতাল ঘোষণা করা হবে। গতকাল শনিবার জেলার হাটহাজারী উপজেলার দারুল উলুম মাদরাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিশিষ্ট আলেম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক) চেয়ারম্যান এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ- এর আমীর আল্লামা শাহ্ আহ্্মদ শফী। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন কওমী মাদরাসার পরিচালক, ইসলামিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ইমাম-খতীবসহ ৩ হাজার উলামা-মাশায়েখ অংশগ্রহণ করেন। দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা মিলনায়তনে ওলামা-মাশায়েখগণ শাহবাগী আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক - মুরতাদ এবং নবী (সা.) এর বিরুদ্ধে কুত্সা রটনাকারী ব্লগারদের কঠোর শাস্তি ও সরকারের ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং নির্বিচার গণহত্যার তীব্র প্রতিবাদ করেন। বক্তারা মসজিদ, মাদরাসা, আলেম-ওলামা ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলা-মামলা ও দমন-পীড়ন বন্ধ এবং প্রতিবাদী ধর্মপ্রাণ জনসাধারণকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা বন্ধের দাবি জানান।
আল্লামা শাহ্্ আহ্্মদ শফী’র সভাপতিত্বে এবং হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মুহাদ্দিস মাওলানা হাফেজ শামসুল আলম, মাওলানা আব্দুল মালেক হালিম, হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ হারুন, ইসলাম ঈমান ও দেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোসেন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মুফতী ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের আমীর মাওলানা সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ্্ খান, খতমে নবুওয়াতের সেক্রেটারী মাওলানা হাফেজ নূরুল ইসলাম, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মুফতী আব্দুল হালিম বোখারী, মধুপুরের পীর সাহেব মাওলানা আব্দুল হালিম, প্রখ্যাত মুফাসসীরে কুরআন মাওলানা মোস্তফা আল-হোসাইনী, বি-বাড়িয়ার মাওলানা সাজেদুর রহ্্মান, নাজিরহাট বড় মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস, ফিরোজশাহ্্র পীর মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম, বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মুফতী এনামুল হক, নানুপুর ওবায়দিয়া মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব ঢাকা, জামেয়া রহমানিয়া ঢাকার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক, মাদানী নগর মাদরাসার মাওলানা ফয়জুল্লাহ সন্দ্বীপী, ইত্তিফাকুল উলামা ময়মনসিংহের সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ্ সাদী, জিরি মাদরাসার মাওলানা লুত্ফর রহমান, মুফতী মিজানুর রহ্্মান সাঈদ, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, মুফতী আমিনীর ছেলে মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী, মাওলানা মুহাম্মদ আনাস ভোলা, মেখল মাদরাসার মাওলানা মুহাম্মদ নোমান, মাওলানা আব্দুল জাব্বার জেহাদী রাজশাহী, ফেনী ওলামা বাজার মাদরাসার মুফতী শিব্বির আহ্্মদ, নেত্রকোনার মাওলানা মনসূরুল হক খান, জামিয়া ইউনুসিয়া বি-বাড়িয়ার মুফতী আব্দুর রহীম, নোয়াখালীর মাওলানা মুহাম্মদ সফি উল্লাহ্, জামিয়া মাদানীয়া ফেনীর মাওলানা সাইফুদ্দীন, সিলেটের মাওলানা এনামুল হক, কক্সবাজারের মাওলানা হাফেজ সালামত উল্লাহ্, হবিগঞ্জের মাওলানা মাসরুরুল হক, চট্টগ্রাম মোজাহেরুল উলূমের মাওলানা লোকমান হাকীম, মাওলানা মাহ্্মুদুল হাসান ফতেহপুরী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম নীলফামারী, মুফতী জসীম উদ্দীন, মাওলানা মুহাম্মদ ওমর, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, ইসলামী ঐক্যজোট চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী, হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুাহম্মদ আনাস মাদানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহ্্মদ, নরসিংদীর মাওলানা আলী আহ্্মদ কাসেমী, খুলনার মাওলানা আতাউর রহ্্মান, বাগেরহাটের মাওলানা আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সম্মেলনে আল্লামা শাহ্্ আহ্্মদ শফী’র উপস্থিতিতে তাঁর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাহেবজাদা মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানী।
সভায় আল্লামা শাহ্্ আহ্্মদ শফী’ বলেন, বামপন্থি নাস্তিক বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শে বর্তমান সরকার এ দেশ থেকে ইসলাম বিতাড়নের দীর্ঘমেয়াদী নীল নকশা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। কতিপয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া তাদের বলিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে প্রতিনিয়ত ইসলাম, মুসলমান ও আলিম-ওলামাদের হেয় প্রতিপন্ন করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারা আলিম-ওলামা ও মাদারিসে দীনিয়্যার বিরুদ্ধে হরদম মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে জাতিকে বিভক্ত করার অপতত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সমপ্রতি তথাকথিত ব্লগার নামধারী একশ্রেণীর ধর্মদ্রোহী যুবক ইসলাম, আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে নিয়ে চরম আপত্তিকর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে মেতে ওঠেছে। তারা অবাধে ও নির্বিঘ্নে নবী-রাসুলদের নিয়ে মনগড়া, কুরুচিপূর্ণ, অপবাদমূলক বিভিন্ন মন্তব্য ও কথাবার্তা প্রচারের দুঃসাহস দেখাচ্ছে।
আল্লামা শাহ্্ আহ্্মদ শফী আরও বলেন, শাহবাগ চত্বরে ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক-এর নামে চলমান অবস্থান কর্মসূচি ও সেখানকার জাগরণ মঞ্চের মূল হোতাদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ইসলাম অবমাননার ধৃষ্টতা প্রদর্শিত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় কতিপয় ব্লগারের ইসলাম-বিরোধী ও ধর্মদ্রোহিতামূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, শাহবাগের তথাকথিত প্রজন্ম চত্বরে কতিপয় নাস্তিক-আল্লাহদ্রোহীর নেতৃত্বে জাগরণ মঞ্চে মুসলমানদের সন্তান-সন্ততিদের দ্বারা অগ্নিপূজক ও পৌত্তলিকদের অনুকরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়েছে, কথিত জাগরণ মঞ্চের মূল উদ্যোক্তা আসিফ মহিউদ্দীন, আশরাফুল ইসলাম রাতুল, আশরাফ জেবতিক, নিঝুম মজুমদার ও রাজীব হায়দার শোভনসহ স্বঘোষিত নাস্তিকরা নিজেদের ব্লগে আল্লাহ ও রাসুল (সা.) তথা ইসলাম সম্পর্কে চরম অবমাননাকর লেখা ও জঘন্য মন্তব্য করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অনুসন্ধানে আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচারের নেপথ্যে কাদিয়ানীদের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছি। একই মঞ্চে ঘাদানিক-নেতা, নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী শাহরিয়ার কবীর এবং আহমদিয়া মুসলিম জামাতের (কাদিয়ানী) নায়েবে আমীর আবদুল আওয়াল খান পাশাপাশি বসে অনুষ্ঠান করেছে। বর্তমান যুদ্ধাপরাধের বিচারের পেছনে কাদিয়ানীরাও পরোক্ষভাবে বামপন্থি ও সরকারি সমর্থনে সক্রিয় রয়েছে। এর প্রমাণ পাওয়া যায়, আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শাহবাগ চত্বর থেকে ১১ জন কাদিয়ানী যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমরা আরও প্রমাণ পেয়েছি যে, কাদিয়ানী কোম্পানিগুলো তাদের বিপুল পরিমাণে অর্থ-খাদ্য ইত্যাদি সরবরাহ করেছে।
আল্লামা শফি দলমত নির্বিশেষে আলিম-ওলামাসহ সব ইসলামপ্রিয় মুসলমানের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহ, রাসুল সা. এবং ইসলামের মর্যাদা রক্ষায় নাস্তিক-মুরতাদদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিসহ সব ইসলাম বিরোধী অপতত্পরতার প্রতিবাদে আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
গণজাগরণ মঞ্চের নেতারা
চট্টগ্রাম আসলেই হরতাল
হেফাজতে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত সমমনা ১২টি দলের অন্যতম বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির সভাপতি মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় জানান, ঢাকার গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ তথা ব্লগাররা যেদিন চট্টগ্রামে আসবে সেদিনই চট্টগ্রামে হরতাল কর্মসূচি পালন করা হবে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে ঢাকার গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং লালদীঘি ময়দানে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।