সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ান
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২২:২২
‘সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১’ এর নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ১৯৭১ সালের মতোই পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর পরিত্যক্ত দোসরেরা সুসংগঠিত হয়ে আজ নতুন করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর আঘাত হানছে। আমরা এসব হামলার বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই। তারা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বসতবাটি, ধর্মীয় উপসনালয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আক্রান্ত সংখ্যালঘুদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা দানসহ হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ারও দাবি জানান। একইসঙ্গে সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে বিপন্ন সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
গতকাল শনিবার সকালে সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘স্বাধীনতা বিরোধীদের সহিংসতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার প্রতিবাদে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ফোরামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হারুন হাবীব। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ফোরামের চেয়ারম্যান ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান কেএম শফিউল্লাহ বীর উত্তম, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সি আর দত্ত বীর উত্তম, ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল আবু ওসমান চৌধুরী ও ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক কেয়া চৌধুরী।
এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার বলেন, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের রক্ষায় স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র সারাদেশে যেভাবে নৈরাজ্য হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তা সাধারণ মানুষ কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। এই সহিংস আচরণের কারণে তাদের শাস্তি পেতে হবে। যারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না তাদের এ দেশ থেকে চলে যাওয়া উচিত। কে এম শফিউল্লাহ বলেন, যারা জাতীয় পতাকার অবমাননা করে, পবিত্র শহীদ মিনারে হামলা চালায়, পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, নির্বিচারে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ধ্বংস, পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে তাদের প্রতিরোধ করা ছাড়া রাষ্ট্রের হাতে আর কোন বিকল্প থাকতে পারে না। স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ তার নিজস্ব আইনে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচারের পূর্ণ অধিকার রাখে। এই দায়বদ্ধতা পূরণে যে বা যারাই প্রতিপক্ষ হিসাবে আবির্ভূত হবে তারাই রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত হবেন। সি আর দত্ত বলেন, দেশের নানা জায়গায় সংঘটিত হামলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আতংকে দিনযাপন করছে। আবু ওসমান চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে দিয়েছে, শুধু ৭১ সালের বিরোধিতা নয়, ৪২ বছরেও তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি।