সহিংসতা বন্ধে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান

জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা বন্ধে বিভিন্নস্থানে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে দলটির শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে সাতক্ষীরায় শ্যামনগরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানে জেলায় আরো ৩৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন। আটকদের মধ্যে পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আইনজীবী ও মসজিদের ইমাম রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮২ জনে। এর আগে ৪৮ জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। জেলা পুলিশ জানায়, বিভিন্ন উপজেলায় গত রবিবার সংঘটিত তাণ্ডবের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বগুড়া সদর থানা এলাকা থেকে জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট সানোয়ার হোসেনসহ ১২ জন, দুপচাঁচিয়া থেকে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলীসহ ৯ জন, শাজাহানপুর থেকে বুরুলিয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম আলীমুর ইসলামসহ ৪ জন, নন্দীগ্রামে ৩ জন এবং গাবতলী, কাহালু ও শিবগঞ্জ থেকে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক। শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কানসাটে অবস্থিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মনাকষা বাজার থেকে ২ জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এরা হলো মনাকষা ইউপির পারচৌকা গ্রামের মো. তমিজউদ্দীনের ছেলে গোলাম রসুল (৪৫) ও একই ইউপির পোড়াডিহি গ্রামের ডা. মাও. হাবিবুর রহমান (৩৮)। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, হরতালে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশ শুক্রবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪১ জন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর থানায় ৮ জন, শ্যামনগরে ১০ জন, কলারোয়ায় ৬ জন, কালিগঞ্জে ১০ জন, পাটকেল ঘাটায় ১ জন, তালায় ২ জন, দেবহাটায় ২ জন ও আশাশুনিতে ১ জনকে আটক করা হয়। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে হরতালে নাশকতা সৃষ্টি, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এদিকে জেলার শ্যামনগরের কাশিমাড়ি এলাকায় ওই রাতে পুলিশ ও বিএনপি-জামায়াতের সাথে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত ব্যক্তির নাম রেজাউল করিম (৩৫)। সে উপজেলার জয়নগর গ্রামের আমিনউদ্দীন গাজীর ছেলে। গুলিবিদ্ধ রেজাউল করিমকে আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে শ্যামনগর পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবীব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান। কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, কলারোয়া থানার ওসি সিকদার আক্কাস আলী বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধাদানসহ নানা অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃতদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলার সুন্দরগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় ২ কোটি ৭০ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে ১২টিসহ মোট ২০টি মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ২৫ হাজার। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি জানান, অধিকাংশ মামলায় জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি আব্দুল আজিজ, জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি আব্দুল করিমসহ দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জ থেকে ৮ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, তাড়াইল উপজেলার দিগদাইর গ্রামে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৮ আসামিকে গ্রেফতার করে গতকাল শনিবার কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে। এরা হল- বাদল মিয়া, জিল্লুর রহমান, গোলাপ মিয়া, আসাদুজ্জামান শওকত, সুজন, আজহারুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও মতিউর রহমান। ওই ঘটনায় এএসআই আ. আলীম বাদী হয়ে দিগদাইর গ্রামের ৬০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬শ’ জনের বিরুদ্ধে তাড়াইল থানায় মামলা করেন। নাগেশ্বরী সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পুলিশ এক শিবির কর্মীকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তির নাম মইনুল ইসলাম। গতকাল সন্ধ্যায় জনতার সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। সে কেদার ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে ও গোলেরহাট মাদ্রাসার আলীম পরীক্ষার্থী।