সার্কাস

এখনকার প্রজন্মের অনেকেই হয়তো সার্কাস শব্দটির সাথে পরিচিত হলেও চাক্ষুস কখনো সার্কাস দেখেননি। তবে একটা সময় কিন্তু আমাদের দেশের বিভিন্ন শহর আর গ্রামে সার্কাস নামের শারিরীক কসরত দেখানোর নানা প্রদর্শনী আয়োজিত হতো নিয়মিতভাবেই। এমনকি টিভিতেও দেখানো হতো মজার মজার সব সার্কাসের অনুষ্ঠান। আমাদের দেশের সীমিত ভাবে এবং বিশ্বের অনেক দেশে এখনো জনপ্রিয় এই সার্কাসের জন্ম আসলে হয়েছিল অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে ইংল্যান্ডে। আর এই সার্কাসের জনক হিসেবে যার নামটি সবার প্রথমে উচ্চারিত হয় তিনি হলেন ফিলিপ এক্সলে। তিনি ছিলেন খুব দক্ষ ঘোড়সওয়ার। লন্ডনের আশপাশে তার খুব নাম-ডাক থাকলেও সে অর্থে স্বচ্ছল ছিলেন না তিনি। ১৭৬৯ সালের কোনো এক সময় লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে কোথাও যাচ্ছিলেন এক্সলে। হঠাত্ একটি আংটি দেখতে পান তিনি। পথের ওপর পড়ে ছিল ওটা। আংটিটা তুলে নিজের কাছে রাখেন কিছুদিন। চেষ্টা করেন আংটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে। কিন্তু তার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরই মাঝে এক্সলের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পড়ে। তখন তিনি বাধ্য হয়েই আংটিটি বেচে দেন। আংটিটিতে দামি পাথর বসানো ছিল। তাই দামও পান আশাতীত। এক্সলে তখন এ টাকাটাকে স্থায়ীভাবে কাজে লাগাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তিনি তো ব্যবসা জানেন না। অন্য কিছুও জানেন না। শুধু জানেন ঘোড়ার পিঠে চড়ে খেলা দেখাতে। অবশেষে ঘোড়ার পিঠে চড়ে খেলা দেখিয়ে উপার্জন করবেন বলেই সিদ্ধান্ত নেন এক্সলে। এ সময় তার সঙ্গে যোগ দেন আরও কয়েকজন খেলোয়াড়। কেউ কেউ ভালুক ও বানর নিয়ে এসে এক্সলের দলে ভিড়ে যায়। ১৭৭৭ সালের মধ্যে এক্সলের সার্কাস সারা ইংল্যান্ডে জনপ্রিয়তা লাভ করে। দিনে দিনে সার্কাসে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। মানুষও লেগে যায় শারীরিক কলাকৌশল দেখাতে। বাড়তে থাকে সার্কাস মঞ্চে আলো ও শব্দের নান্দনিক ব্যবহার। ফলে সব শ্রেণীর দর্শকদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় এই সার্কাস। যদিও সার্কাস শব্দটির সাথে আক্ষরিকভাবে শারীরিক কসরতের কোনো সংযোগ নেই। বরং এই শব্দটির সাধারণ অর্থ হলো গোলাকৃতি চত্বর বা চার রাস্তার সংযোগস্থল। এ থেকে অনেকেই মনে করেন যে, আগের দিনে এ ধরনের স্থানে সার্কাসের আয়োজন করা হতো বলেই হয়তো সে থেকে এই নামটি এসেছে।