‘দ্যা গার্ডিয়ান’

উত্সাহব্যঞ্জক রাজনীতিবিদ নারী

রাজনৈতিক অঙ্গনে পুরুষের পাশাপাশি বিশ্বের কতিপয় স্বনামধন্য রাজনীতিপ্রেমী নারী, যারা জীবনকে বাজি রেখে রাজপথ আর অন্ধকার কারাগারে কারাবন্দী থেকে অতিবাহিত করেছেন জীবনের অধিকাংশ সময়। তাদের এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘দ্যা গার্ডিয়ান’ পত্রিকাটি ১০০ জন রাজনীতিবিদ নারীর একটি তালিকা তৈরি করেছেন। যাঁদের মধ্যে— অং সান সুচি, হিলারি ক্লিনটন, গ্রো হারলেম ব্রান্ডল্যান্ড ও মিশেল ব্যাচলেট অন্যতম। অং সান সু চি রাজনৈতিক অঙ্গনে আপোসহীন অগ্নিকন্যাখ্যাত বার্মিজ রাজনীতিবিদ অং সান সু চির জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৯ জুন। মিয়ানমারের বিরোধীদলীয় নেত্রী সু চি হচ্ছেন ন্যাশনাল লীগ অফ ডেমোক্রেসির (এনএলডি) চেয়ারপার্সন। ১৯৯০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তার দল ৫৯ শতাংশ ভোট এবং সংসদে ৪৮৫টি আসনের মধ্যে ৩৯২টি আসন পেয়ে জয়ী হয়। নির্বাচনের পূর্বে তাকে গৃহবন্দী হিসেবে আটক রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছর গৃহবন্দী শেষে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর মুক্তি দেয়া হয়। গণতন্ত্রকামী সু চি সর্বদা অহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। রাজনৈতিক কারণে বহু দশক ধরে স্বামী, সন্তান ও সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন তিনি। মমতাময়ী নারী হিসেবে বার্মিজ সু চিকে ‘ড সু’ নামে সম্মানসূচক খেতাব দেয়া হয়। সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি সারাজীবন একনায়কতন্ত্র বর্বরতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। অকুতোভয় সু চি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সামরিক শাসনের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলে সেনা শাসনকে প্রতিহত করেছিলেন। এভাবেই তার সংগ্রামের প্রথম অধ্যায় শেষ হয় গৃহবন্দীদশা থেকে মুক্তিলাভের মাধ্যমে। হিলারি ক্লিনটন ৬৫ বছর বয়সী হিলারির পুরো নাম হিলারি ডায়ান রোডহ্যাম ক্লিনটন। আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নারীদের মধ্যে হিলারি অন্যতম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধীনে তিনি ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ইতিহাসে হিলারি হলেন একজন অন্যতম সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী। হিলারি ১৯৯৩-২০০১ সাল পর্যন্ত ছিলেন একমাত্র ফার্স্ট লেডি। এছাড়া হিলারিকে অনেকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বা জেমস বেকারের সমপর্যায়ের বলে অভিহিত করেন। হিলারির সমর্থকদের মতে, মিয়ানমারকে গণতন্ত্রের পথে নেয়া, এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব বাড়ানো এবং ইরানের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় হিলারির অন্যতম সাফল্য। এছাড়া ২০০৯ সালে হিলারির দায়িত্ব নেয়ার সময় অর্থনৈতিক মন্দা ও মার্কিন বন্ধুপ্রতিম বিগড়ে যাওয়া কয়েকটি জোটকে তিনি ক্ষমতায় গিয়ে কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণ করেন। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ‘সফল এক পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিরোনাম বনে হিলারি তার অধ্যায়ের ইতি টানেন। গ্রো হারলেম ব্রান্ডল্যান্ড নরওয়েজীয় সামাজিক, গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, কূটনীতিক, চিকিত্সক এবং জনস্বাস্থ্যের টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক নেতা গ্রো হারলেম ব্রান্ডল্যান্ডের জন্ম ১৯৩৯ সালের ২০ এপ্রিল। তিনি একাধারে তিনবার নির্বাচিত হয়ে ১৯৮১-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৮ সালে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে হারলেম জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করেন। নারী হিসেবে একজন মাত্র ব্যক্তি হয়ে একাধিক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়ে নিজেকে সর্বদা সবার থেকে আলাদাভাবে প্রমাণ করেছেন হারলেম। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ডাক্তার ছিলেন, পরে ১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার শাসনামলে মন্ত্রিসভার অর্ধেক সদস্য ছিলেন নারী। এছাড়া সংরক্ষিত আসনেও নিয়োগ দেয়া হয় প্রায় ৪০ শতাংশ নারীকে। এভাবেই হারলেম নরওয়েতে সর্বপ্রথম নারীদের এই কোটা পদ্ধতির সূচনা করেন। তার উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে- তামাক নিয়ন্ত্রণ, চলন্ত পোলিও নির্মূল এবং এইডস ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্য।