প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৩, ১৯:৫৮
ফেব্রুয়ারির গান
লুত্ফর রহমান রিটন
কবি পরিচিতি
লুত্ফর রহমান রিটন ১৯৬১ সালের ১ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বিচিত্র বিষয়ে ছড়া ও কবিতা রচনা করে তরুণ বয়সেই তিনি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ছড়া ছাড়াও তিনি গল্প, উপন্যাস লেখেন। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালে তিনি লাভ করেন বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরষ্কার। টেলিভিশনের উপস্থাপক হিসেবেও তিনি খ্যাতিমান। তার উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: ‘ধুত্তরি’ ‘ঢাকা আমার ঢাকা’, ‘ছড়া ও ছবিতে মুক্তিযুদ্ধ, ভুতের বিয়ের নিমন্ত্রণে’, ‘বাচ্চা হাতির কাণ্ডকারখানা’ ইত্যাদি।
প্রিয় শিক্ষার্থী। বাংলা বিষয়ের ওপর আলোচনায় তোমাদের স্বাগত জানাচ্ছি। আজ আলোচনা করবো কবিতা ‘ফেব্রুয়ারির গান’।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: গ্রীষ্ম-বর্ষা শীতের বাতাসে কিসের প্রতিধ্বনি ছড়ায়?
উত্তর: প্রতিধ্বনি বলতে আমরা বাতাসের ধাক্কায় ধ্বনির পুনরায় ফিরে আসাকে বুঝে থাকি। রূপে-অপরূপা বাংলাদেশের প্রকৃতিতেও প্রতিনিয়ত চলছে প্রতিধ্বনির আনাগোনা। প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান বিভিন্নভাবে তাদের সৌন্দর্য বিতরণ করে থাকে। পাহাড়ও তার সুরের সৌন্দর্য বিকশিত করে ঝরনার ছন্দে। কবির দৃষ্টিতে গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত ঋতুর বাতাসে পাহাড়ের সেই সুর-সৌন্দর্যের প্রতিধ্বনি ছড়ায়।
প্রশ্ন: পাতা মুগ্ধ হচ্ছে, স্বর্ণলতা মুগ্ধ হচ্ছে কিসের গানে?
উত্তর: ‘মুগ্ধ’ শব্দটির অর্থ বিমোহিত বা আনন্দিত। প্রকৃতির সব কিছুরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কবির দৃষ্টিতে বাংলাদেশের প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান নানাভাবে নিজেকে প্রকাশিত করে চলেছে। সাগর, নদী, পাহাড়, ঝরনা, পাখি যে মন-ভোলানো সুর আর গানে প্রকৃতিকে বিমোহিত করছে ঠিক একইভাবে পাতা ও স্বর্ণলতাও মুগ্ধ হচ্ছে গাছের গানে।
প্রশ্ন: আমরা কোন ভাষাতে আমাদের মনের কথা বলি?
উত্তর: ফুল, পাখি, পাহাড়, ঝরনা ও সাগর নিজস্ব অভিব্যক্তি প্রকাশ করছে তাদের নিজেদের মতো করে। তাদের নিজস্ব ভাষা, বৈচিত্র ও বৈশিষ্টে তারা গরীয়ান। আমরা ফুল-পাখি নই। কিংবা পাহাড় ঝরনা-সাগরও নই। আমরা মানুষ। বাংলাদেশের বাঙালি, আমাদের মায়ের মুখের ভাষা বাংলা। আর মায়ের মুখের এই মধুর ভাষা বাংলা ভাষাতেই আমরা আমাদের মনের কথা বলি।
প্রশ্ন: ‘শহীদ ছেলের দান’ হিসেবে আমরা কী পেয়েছি?
উত্তর: বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। এই ভাষাতে আমরা মাকে মা বলে ডাকতে শিখেছি। এই বাংলা ভাষাতেই আমাদের সকল চাওয়া আর সকল পাওয়া এবং স্বপ্ন-আশা বাস্তবায়িত হয়। অথচ এই ভাষার ওপর আঘাত হেনেছিল পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী। চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল তাদের উর্দু ভাষা। কিন্তু বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা তা হতে দেয়নি। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে বুকের রক্ত দিয়ে শহীদ হয়ে এ ভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছে। একুশে ফেব্রুয়ারির সেই সব শহীদ ছেলের দান হিসেবে আমরা পেয়েছি আমাদের মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। পেয়েছি রাষ্ট্রভাষা বাংলা ভাষা।
প্রশ্ন: ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটিতে কে সুর করেন?
উত্তর: ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটিতে সুর করেন আলতাফ মাহমুদ।
প্রশ্ন: কবিতাটির মূলভাব লেখো।
উত্তর: ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্রসমাজ এই দিনে প্রবলআন্দোলন গড়ে তোলে। ছাত্রদের মিছিলে পাকিস্তান সরকারের পুলিশ গুলি চালায়। সালাম, বরকত, শফিক, জব্বার ও আরও অনেক ছাত্র শহীদ হন। ‘ফেব্রুয়ারীর গান’ কবিতায় বাংলা ভাষার প্রতি মমতা আর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন: একুশে ফেব্রুয়ারি সম্বন্ধে একটি অনুচ্ছেদ লেখো।
উত্তর: একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। কেননা ১৯৫২ সালের এই দিনে স্বৈরাচারী পাকিস্তানিদের কাছ থেকে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা তাদের রক্ত দিয়ে আমাদের মায়ের ভাষা বাংলার মর্যাদা অর্জন করেছে। ভাষার জন্য এ আত্মত্যাগ পৃথিবীতে বিরল। তাই প্রতি বছরই একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। ভোর না হতেই শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানায়।
প্রশ্ন: কবি কোন ‘মন ভোলানো সুর’ সম্বন্ধে বলেছেন?
উত্তর: বাংলা ভাষার প্রতি গভীর মমতা আর ভাষা শহীদদের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধায় ভরা একটি অনবদ্য কবিতা ‘ফেব্রুয়ারির গান’। এই কবিতায় কবি লুত্ফর রহমান রিটন প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের ছন্দ-সুরের সঙ্গে বাংলা ভাষার মাধুর্যের এক অনুপম চিত্রকল্পের বর্ণনা দিয়েছেন। প্রকৃতির নানা উপাদানে রয়েছে নানা রকম সুর। কবি এই কবিতায় ফুল, পাখি, প্রজাপতি, ঝরনা, পাহাড়, তরুলতার পাশাপাশি সাগর-নদীর ঊর্মিমালার মন ভোলানো সুর সম্বন্ধে বলেছেন।