জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের রিটের শুনানি বৃহত্তর বেঞ্চে

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারাধীন রিট শুনানির জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের সুপারিশ পাওয়ার পরই গতকাল রবিবার বিকালে প্রধান বিচারপতি এ বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন। এখন বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হকের বেঞ্চে এ রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারাধীন রিট বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির জন্য গতকাল প্রধান বিচারপতির কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছিলো বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হকের ডিভিশন বেঞ্চ। ওই বেঞ্চের আদেশে বলা হয়, এ রিট আবেদনের সঙ্গে সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। সুতরাং আবেদনটি বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে প্রেরণ করা হলো। গতকাল ওই আদালতের কার্যতালিকায় রিট আবেদনটির ওপর শুনানির জন্য ছিল। শুনানিতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আদালতে বলেন, কয়েকজন বিবাদী (জামায়াতের আমির, সেক্রেটারি জেনারেল) কারাগারে। এছাড়া জামায়াত অফিসও বন্ধ। তাই প্রস্তুতির জন্য সময়ের প্রয়োজন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। যখন এ রিট আবেদন করা হয় তখনকার পর্যায়ে জামায়াতের গঠনতন্ত্র নেই। তাই আগের গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে করা এ রিট আবেদন চলতে পারে না। এ পর্যায়ে আদালত ব্যারিস্টার রাজ্জাককে বলেন, আগে মামলার বিবরণ শুনি। এরপর রিট আবেদনকারীদের কৌঁসুলি ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর রিটের বিবরণ আদালতের কাছে তুলে ধরার এক পর্যায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের প্রশ্নে সাংবিধানিক ও আইনি বক্তব্য উঠে আসে। তখন হাইকোর্ট বলে, এই রিটে সাংবিধানিক ও আইনগত ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত। এজন্য বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ডিভিশন বেঞ্চের ওই দুই বিচারপতির সঙ্গে হাইকোর্টের আরেক বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে যুক্ত করে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে রিট আবেদনটি করেন।