জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনকে জামিন দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর শাখার সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিনকে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও দুই আইনজীবীর জিম্মায় জামিন দিয়েছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ সেলিম উদ্দিনকে হাজির করা হয়। পরে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। এছাড়া আগামী ২১ মার্চ ট্রাইব্যুনালে তার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকেও অব্যাহতি দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চ ট্রাইব্যুনাল সেলিম উদ্দিনসহ জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও ঢাকা মহানগর শাখার নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তাদের গ্রেপ্তার করে ২১ মার্চের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ৮ মার্চ সেলিম উদ্দিনসহ দুই জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে গতকাল ট্রাইব্যুনাল তাকে হাজিরের নির্দেশ দেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মতিঝিলে জামায়াতের এক সমাবেশে ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন এক বক্তৃতায় বলেন, দেশকে গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচাতে হলে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনালের রায় দেয়ার কোন সুযোগ নাই। জামায়াতের অপর নেতা হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেন, এ ট্রাইব্যুনাল আর এক মুর্হূতও চলতে পারে না। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের বক্তব্য কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত হয়। এছাড়া রফিকুল ইসলাম খান গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রেস ব্রিফিংয়ে করে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে শোকজ নোটিস জারি করে ট্রাইব্যুনাল। মুজাহিদের বিরুদ্ধে তিন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ: জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের জব্দ তালিকার তিন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল ট্রাইব্যুনাল-২ এ ১৪তম সাক্ষী বাংলা একাডেমীর সহ-গ্রন্থাগারিক এজাবউদ্দিন মিয়া, ১৫তম সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রধান ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তা আমেনা খাতুন ও ১৬তম সাক্ষী বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তা স্বপন কুমার বিশ্বাসের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার কার্যক্রম আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।