যেখানে জামায়াতের আধিপত্য ‘এমন ধ্বংসযজ্ঞ কেউ আগে দেখেনি’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং দেশের যেসব এলাকায় জামায়াতের আধিপত্য বেশি সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন সিনেট মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষকরা এ দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ এবং বামদল সমর্থিত শিক্ষকদের প্লাটফর্ম নীল দলের শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে নোয়াখালী ঘুরে এসে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষকরা রাজগঞ্জের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেন, মালিবাড়ির ১৪টি পরিবারের সবকটি ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে। দুপুরের খাবার জন্য রান্না করা ভাতগুলোও কেউ খেতে পারেননি, সেগুলোও পুড়ে অঙ্গার। ধান-চাল আসবাব, অর্থকরি— সব গেছে আগুনের গর্ভে। পড়ার টেবিলে সাজানো বইগুলোর দুই একটি পাতা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই বাড়ির অশীতিপর এক নারীর চোখে-মুখে তাই আতঙ্ক আর হতাশা। তিনি ’৪৭-এর দেশভাগ দেখেছেন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন; কিন্তু এমন ধ্বংসযজ্ঞ কখনো দেখেননি। শিক্ষকদের আট দফা দাবির মধ্যে কয়েকটি হলো- যেসব এলাকায় জামায়াতের আধিপত্য বেশি সেসব এলাকায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ‘প্রতিরোধ কমিটি’ গড়ে তুলতে হবে। বিজিবি, পুলিশ, র্যাব এবং আনসার বাহিনী সমন্বয় করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশকে জামায়াত-শিবির মেনে নিতে পারেনি। তারা চায় বাংলাদেশকে ধ্বংস করে তাদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করে দেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জামায়ত-শিবিরকে এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে তারা আর এমন স্পর্ধা দেখানোর সাহস না পায়। কবি জসীমউদদীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, যে বিভত্স, নৃশংসভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে তা সভ্য জগতে হতে পারে না। হামলায় মানুষের মধ্যে যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীন, আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, ড. নিযামুল হক ভুঁইয়া, ড. শফিউল আলম ভুঁইয়া।