এম কে আনোয়ারকে সতর্ক করলো যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ারকে সতর্ক করে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ নিষ্পত্তি করে দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে এমকে আনোয়ারের বক্তব্যের লিখিত ব্যাখ্যা ট্রাইব্যুনালের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। এরপরও এমকে আনোয়ারের অবস্থান বিবেচনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য ট্রাইব্যুনাল সতর্ক করছে। আদেশে বলা হয়, আগেও ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য রাজনৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘাত কখনো আদালতের বিবেচনার বিষয় নয়। বাইরের যে কোন বিষয় থেকে আদালত স্বাধীন। তাই এমন কোন মন্তব্য করা উচিত হবে না যাতে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়। আদেশে আরো বলা হয়, এমকে আনোয়ারের মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আশা করা যায় না। এটা সত্যিই পরিতাপের বিষয়। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আইনানুগ আচরণ করবেন আমরা এটাই আশা করি। আদালত ও বিচারকের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য বিচার ব্যবস্থাকে খাটো করে। কেউ বাক-স্বাধীনতার কথা বলে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে অবমাননাকর কিছু বলতে পারেন না। মনে রাখা উচিত এ ধরনের বক্তব্য জনমনে তীব্র বিরাগের সৃষ্টি করতে পারে। উল্লেখ্য, মহানগর নাট্যমঞ্চে গত ২০ জানুয়ারি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর আলোচনায় এমকে আনোয়ার বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করছে। বিভিন্ন দৈনিকে এ সংবাদ প্রকাশের পর ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রানা দাশ গুপ্ত তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এমকে আনোয়ার আইনজীবীর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন। তিনি এ বিষয়ে আইনি লড়াই চালাবেন বলে জানানো হয়। পরে ৪ মার্চ এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে আদেশের জন্য ১০ মার্চ দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করায় জাতীয় সংসদের উপদেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলোমগীর, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কাছেও ব্যাখ্যা চেয়ে একই ধরনের আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-২। যদিও এমকে আনোয়ার ছাড়া বাকিরা ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন।