গত দুই দশকে বাংলাদেশের ওপর আসা ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়েছে ফণী। গত সপ্তাহে আবহাওয়া অধিদপ্তর এই ঘূর্ণিঝড়টির পূর্বাভাস জানানোর পর থেকেই চলতে থাকে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি। ব্যাপক আলোচনা চলতে থাকে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ২০০৭-এর সিডর ও ২০০৯-এর আইলার চাইতে অনেক বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি। এটির আয়তন বাংলাদেশের মোট আয়তনের চেয়ে বেশি, প্রায় দেড়লাখ বর্গকিলোমিটার। ব্যাস ছিল ৩০০ কিলোমিটার। দীর্ঘপথ ও সময় ধরে ভারত ও বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এগুনোর ফলে ঘূর্ণিঝড়টির মধ্যে বিপুল পরিমাণে জলীয়বাষ্প সঞ্চিত হয়। উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সব জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিষ্ণুবরেখার কাছে সৃষ্টি হওয়ায় দীর্ঘসময় ধরে শক্তি সঞ্চার করে ফণী। ১৮৫ কিলোমিটার বেগে ঊড়িষার পুরীতে আঘাত করে এটি। পরে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আগে সিডর ও আইলা সুন্দরবনে বাঁধা পেয়ে দুর্বল হলেও ফণীর ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটেনি, ফলে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়েও এটির শক্তি খুব বেশি কমেনি। শনিবার সকাল ৬টার দিকে এটি খুলনা ও সাতক্ষীরার দিক দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু লিখেছে, ১৯৭৬ সালের পর এত শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি ভারতীয় উপমহাদেশ। ফলে ৪৩ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।
এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরও বলছে, গত ৪৩ বছরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী। ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের হিসেব অনুযায়ী, ১৯৬৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর এবং পার্শ্ববর্তী আরব সাগরে ৪৬টি প্রবল ঘূর্ণিঝড় দেখা গেছে। এরমধ্যে অক্টোবর-নভেম্বরে ২৮টি ঝড় সৃষ্টি হয় আর মে মাসে হয় ৭টি। ১৯৭৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এপ্রিল-মে মাসে বঙ্গোপসাগরে যত ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে তার কোনোটিই এত শক্তিশালী ছিল না।