গ্যাস পাইপলাইনে সংযুক্ত হচ্ছে ইরান ও পাকিস্তান
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৩, ২০:১১
পাকিস্তান এবং ইরানের প্রেসিডেন্টরা গতকাল দুদেশের মধ্যে একটি বহু প্রতীক্ষিত গ্যাস পাইপলাইনের গতকাল সোমবার ইরানের সীমান্ত শহর চাহবাহারে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ও আসিফ আলি জারিদার এই পাইপ লাইনের কাজ উদ্বোধন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং অবরোধ আরোপের ঝুঁকির বিষয়ে বার বার সতর্কতা স্বত্বেও পাকিস্তান এই পাইপলাইনের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তান বলছে, দেশটির দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য মাল্টি বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পটি অপরিহার্য। বেশ কয়েক বছর আগে প্রথম যখন এই পাইপলাইনটির কথা আলোচনায় আসে, তখন একে ‘শান্তির পাইপলাইন’ বলে অভিহিত করা হয়েছিল। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ইরান থেকে পাকিস্তান এবং ভারত দ’ুদেশেই গ্যাস সরবরাহের কথা বিবেচনা করা হচ্ছিল।
ভারত এই পরিকল্পনা বাতিল করে। তবে ইরান এবং পাকিস্তান পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যায়, আর এরই মধ্যে ইরানের অংশে পাইপলাইন তৈরির কাজও হয়ে গেছে। পাকিস্তানের অনেক শিল্প-কারখানা বিদ্যুত্ এবং গ্যাস সংকটের কারণে বেশ নাজুক অবস্থানে চলে গেছে। পাকিস্তান গতকাল ৭৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি তৈরির কাজ শুরু করে । তারা বলেছে কোন ধরণের চাপের কাছেই তারা নতি স্বীকার করবে না। পাকিস্তানের মিত্রদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যেই বলে আসছে, এই পাইপলাইনটির মাধ্যমে যদি ইরানকে আরও গ্যাস বিক্রির সুযোগ করে দেয়া হয়, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের চেষ্টাকে হেয় করা হবে। তারা বলছে, জ্বালানি সংকট মোকাবেলার জন্য পাকিস্তানের আরও পথ খোলা রয়েছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী দু’বছরের মধ্যেই এই পাইপলাইনটি তৈরি হয়ে যাবে। তবে তারা স্বীকার করছেন, উত্তেজনাপূর্ণ বেলুচিস্তানের মধ্য দিয়ে এই পাইপলাইনটি নিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এছাড়াও অর্থনৈতিক টানাপড়েনে থাকা পাকিস্তানের জন্য এর নির্মাণকাজের খরচও স্পষ্টভাবেই একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে। তবে সরকার দাবি করছে, তারা এই তহবিল যোগাড় করতে পারবে।