নানা সমস্যায় জর্জরিত সরাইল হাসপাতাল

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেবার মান বাড়েনি। চিকিত্সকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা অনেক ডাক্তারের নিয়মে পরিণত হয়েছে। এখানে চিকিত্সকের ২৯টি পদ থাকলেও ১২ জন কর্তব্যরত রয়েছেন। দালালদের দৌরাত্ম্যে রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। গত ৩ মার্চ সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, চিকিত্সা নিতে আসা শতাধিক রোগী চিকিত্সকদের জন্য অপেক্ষা করছেন। ডেন্টাল সার্জনসহ মাত্র ছয়জন চিকিত্সক রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. নোমান মিয়া ঢাকায় ট্রেনিং-এ আছেন। শিশু বিশেষজ্ঞ জসিম উদ্দিন, চিকিত্সা কর্মকর্তা সৈয়দা কানিজ ফাতেমা, সিফাত-ই-মাহবুব ও সাবিহা মাহবুব হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছেন। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে চিকিত্সা কর্মকর্তা কোয়ার্টারের ১৫ ইউনিট প্রায় সব ক’টি খালি পড়ে থাকার কারণে এসব বাসাবাড়ি জরাজীর্ণ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা থাকার পরও নানা অজুহাতে কোন ধরনের অপারেশন করা হয় না। ব্যবহারের অভাবে থিয়েটারের নানা যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞান বিশেষজ্ঞ (অ্যানেসথেশিয়া) মাহবুবুল আলম এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। গত চার মাসে একজন রোগীকেও তিনি অজ্ঞান করেননি। অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ জান্নাতুল নাঈম জানান, হাসপাতালে বিগত ২০১০ সালের চার সেপ্টেম্বর থেকে সিজার অপারেশন বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের জেনারেটরটির জ্বালানি তেলের বরাদ্দ নেই এমন অজুহাতে চালানো হয় না। রাতে বিদ্যুত্ না থাকলে ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও স্বজনরা নিজ খরচে মোমবাতি কিনে আনে। জরুরি বিভাগে রোগীর চিকিত্সা চলে মোমবাতির আলোয়। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চাকার অভাব দেখিয়ে তা বিকল করে ফেলে রাখা হয়েছে। ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, তারা এখানে সেবার নামে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। টয়লেট নোংরা। হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ দেয়া হয় না। রোগীদের নিম্নমানের খাবার দেয়া হয়। হাসপাতালের স্টাফরা আশপাশের প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর দালাল হিসেবে কাজ করেন। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক জানান, ডাক্তারদের অনুপস্থিতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান জানান, অভিযোগ ও সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।