সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে উেস কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনা

কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হচ্ছে না সঞ্চয়পত্রে। বিনিয়োগ আকর্ষণে সঞ্চয় পরিদফতর থেকে নানা ধরনের পদপেক্ষ নেয়া হলেও তার প্রভাব পড়ছে না বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। চলতি (২০১২-১৩) অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩৬৩ কোটি টাকা। অথচ এ বছর বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর প্রেক্ষিতে আগামী অর্থবছর (২০১৩-১৪) থেকে সঞ্চয়পত্রে সব ধরনের উেসকর ও সুদহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহারের চিন্তা করছে সরকার। এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রণজিত্ কুমার রায় বাসসকে বলেন, ‘মধ্যবিত্ত জীবনযাপনে কিছুটা স্বস্তি আনতে আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে সব ধরনের সঞ্চয়পত্র থেকে উেস আয়কর প্রত্যাহার করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের স্কিমগুলোর মুনাফার হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। পাশাপাশি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার করা হতে পারে।’ মধ্যবিত্ত জীবনে সঞ্চয়পত্র একমাত্র বিনিয়োগের ভরসাস্থল হলেও উেস আয়কর আরোপ করার ফলে অনেকেই এসব সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, কোন কোন স্কিমের মুনাফার হার ব্যাংকের চেয়েও কম। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সঞ্চয় পরিদফতর থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়। এতে কোন্ কোন্ স্কিম তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় কম তা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে বিদ্যমান মুনাফার হারের কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এক্ষেত্রে ৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১২ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ হতে পারে। ৫ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১২ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ করা হতে পারে। ৩ বছর মেয়াদি ৩ মাস অন্তর সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ করা হতে পারে। ৩ বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় মেয়াদি হিসাব মুনাফার হার ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ থেকে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ হতে পারে। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক সাধারণ হিসাব মুনাফার হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ হতে পারে। ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র মুনাফার হার ১২ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ হতে পারে। ৫ বছর মেয়াদি ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড মুনাফার হার ১১ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশ হতে পারে। বর্তমানে ৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ, ৫ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্র উেসকর শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ, ৩ বছর মেয়াদি ৩ মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয়পত্র শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ, ৩ বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় মেয়াদি হিসাব ১ দশমিক ২৪ শতাংশ, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ ও ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ উেসকর কাটা হয়। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন স্কিম নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এতে আশু বাস্তবায়নযোগ্য, স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য ও মধ্যম মেয়াদের বাস্তবায়ন নিয়ে মোট ২১ সুপারিশ উঠে আসে। এর আগে গত বছর ৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রণজিত্ কুমার চক্রবর্তীকে সভাপতি করে এই পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আশু বাস্তবায়নযোগ্য ১৩ সুপারিশ করে।