আলীমের বিরুদ্ধে পিতা হত্যার
বর্ণনা দিলেন কন্যা লাইলী
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৩, ২১:১৩
বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে ’৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের ১২তম সাক্ষী লাইলী বেগম (৬৪) তার সাক্ষ্যে পিতা হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এ সাক্ষী গতকাল জবানবন্দি পেশ করেছেন। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা শুরু করেছে আসামিপক্ষ। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ পর্যন্ত মুলতবি করেছে ট্রাইব্যুনাল।
সাক্ষী লাইলী বেগম তার সাক্ষ্যে বলেন, আমার বাবা জয়পুরহাট আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং জয়পুরহাট এলাকার একজন বিশিষ্ট হোমিও ডাক্তার ছিলেন। সাক্ষী বলেন, ’৭১-এর ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের পর আমার বাবা জয়পুরহাটে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। তিনি ওই কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল আমার বাবা রাত আটটার দিকে আমার বাড়িতে আসেন। পরে তার কাছ থেকে জানতে পারি। সন্ধ্যায় সংগ্রাম কমিটির লোকজন আব্দুল আলীমের বাড়িতে তাকে ধরতে যায়। আব্দুল আলীম ভয়ে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
সাক্ষী বলেন, বাবাকে ধরে নেয়ার সময় আমার ভাইপো এক রাজাকারের পা ধরে কান্না করলে তাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। তখন আমি এবং আমার ভাই নজরুল ইসলাম মিলে তাদের পিছু পিছু অনুসরণ করি। তখন অন্ধকার ছিল। আমরা বাবাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলাম। তারপর দেখলাম তেঘরা ব্রিজ রাজাকার ক্যাম্পে আমার বাবাকে রাখা হয়। তিনি বলেন, ওই খান থেকে কিছুক্ষণের মধ্যে চোখ ও হাত বেঁধে বাবাকে জয়পুরহাট রেল স্টেশনের নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর ওনাকে পরদিন সকাল ৮টার দিকে রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় শান্তি কমিটির অফিস শাওনলাল বাজলার গদিঘরে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আলীমের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, বাড়ি ফিরে আসার পর আমার বড় জেঠা কাজী মফিজউদ্দিন, মামা মালেক সরদার এবং আমি ও আমার ভাই মিলে আলীমের শান্তি কমিটির অফিসে যাই। সেখানে গিয়ে আলীমের কাছে অনুনয়-বিনয় করলে তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। পরের দিন আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে রাজাকার আতিকউল্লাহ বিহারী আমাদের বাড়িতে এসে জানায়, ৫ হাজার টাকা দিলে বাবাকে ফিরিয়ে দেবে। এরপর তাকে ৫ হাজার টাকা দিলে কিছুক্ষণ পরে সে ফিরে এসে জানায়, আলীম বসের হুকুমে ডাক্তারকে কুটিবাড়ী ঘাটে নিয়ে মারা হবে; কিন্তু কিছুক্ষণ পরে সিরাজ নামে একজন এসে বলে, রাজাকাররা আলীমের কথামত আমার বাবার দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে এবং সামনের দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছে। তাকে ২৫ জুলাই কুটিবাড়ী ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন সন্ধ্যার আগে আমরা জানতে পারি বাবা মারা গেছেন।