জাতীয় হকি দলের পাশে দাঁড়াল জনতা ব্যাংক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৫
নিজেদের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসেবের চাইতেও হকির উন্নয়নকে বড় করে দেখে জাতীয় হকি দলের পাশে এসে দাঁড়ালো জনতা ব্যাংক। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের চাওয়া অনুযায়ী সমপ্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাল করা জাতীয় দলকে এক বছরের পৃষ্ঠপোষকতা বাবদ ব্যাংকটি গতকাল সোমবার ৯০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা চেক তুলে দিয়েছে ফেডারেশন কর্মকর্তাদের হাতে।
গতকাল দুপুরে বিওএ অডিটোরিয়ামে ফেডারেশনের সাথে জনতা ব্যাংকের এ ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান এবং ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল ইনামুল বারী এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। জাতীয় হকি দলের ইতিহাসে এর আগে এতো বড় অংকের স্পন্সর আসেনি।
মূলত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স সবার নজর কাড়ে। খেলোয়াড়দের এই পারফরম্যান্সকে পুঁজি করে ফেডারেশন সভাপতি হকির দিকে স্পন্সরদের এগিয়ে আনতে চেষ্টা চালান। সেই সূত্র ধরেই জনতা ব্যাংকও প্রায় কোটি টাকার চেক নিয়ে হকির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা কয়েক মিনিটের হলেও শেষ পর্যন্ত তা ঘন্টা ছাড়িয়ে যায়। হকির অতীত বর্তমান নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠলেন অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বারাকাত। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে। হকিবিদদের সুযোগ-সুবিধা দেখা হলে এক সময় বিশ্ব হকিতে দ্বিতীয়, তৃতীয় হওয়াও সম্ভব।’ জিমি, জাহিদ, বিপ্লবদের উপস্থিতিতে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘পারফরফ্যান্সের ধারাবাহিকতা থাকলে সামনের বছরও আমরা থাকব।’
হকি ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার মার্শাল ইনামুল বারী বলেন, ‘মধ্য আশির দশকের পর হকিতে এতো ভালো সময় আর আসেনি। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে জনতা ব্যাংককে পেয়ে আমরা খুশি। আমরা চেষ্টা করছি হকির আগের জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনব।’ প্রধান অতিথি আবুল বারাকাতের বক্তেব্যের সূত্র ধরে ফেডারেশন সভাপতি বলেন, ‘আপনি বলেছেন ক্রিকেট এগিয়ে আসছে। ক্রিকেট কয়টা দেশ খেলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হকির ব্যপ্তিটা অনেক বড়। অনেক সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন।’
হকি খেলোয়াড়দের ভালো পারফরম্যান্সে উত্সাহদানে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপেক্ষার দিকে ইঙ্গিত করে ফেডারেশন সভাপতি বলেন, ‘ক্রিকেটে বোনাস ঘোষণা করেছে। অথচ দিল্লি হকিতে শক্তিশালী চীনকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বোনাস ঘোষণা করা হয়নি।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান অতিথি আবুল বারাকাত জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের চাকরির সুযোগ করে দেয়া যায় কিনা ভেবে দেখবেন। খেলোয়াড়দের বেতন প্রথা প্রবর্তন করার প্রশ্নে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন এটা ভাবছি না।’ তার এই কথায় হতাশ হয়েছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। এ প্রসঙ্গে জাতীয় দলের অধিনায়ক জাহিদ বলেন, ‘আর কত অপেক্ষা করব। আমাদের তো পরিবার আছে। এভাবে চললে বউ-ঝি’রা ঘর ছেড়ে চলে যাবে।’
উল্লেখ্য বর্তমান আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন থেকে একজন বেলজিয়ান কোচ দেয়া হয়েছে জাতীয় হকি দলের জন্য। কিন্তু তিনি এক বছরে ছয়বার আসবেন। হকি ফেডারেশন চাইছে বছর জুড়ে বিদেশি কোচ রাখতে। এর জন্য যোগোযোগ হয়েছে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সাথে।