আশরাফুলের জন্য বেদনা

স্পোর্টস রিপোর্টার আজকের দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মানেই চূড়ান্ত পেশাদার মানুষ। অধিনায়ককে তো আরেক কাঠি বেশি পেশাদার হতে হবে! তার আবেগ থাকবে না; তিনি কাঁদবেন না, হাসবেন না! কিন্তু এ বিবেচনায় মুশফিকুর রহিম ‘ব্যর্থ’। তিনি আনন্দের সময়ে শিশুর মতো হাসতে পারেন, লোক লজ্জার ভয় না করে দলের দুঃখে চোখের পানিও ফেলতে পারেন। গলে গত দু’দিন ধরে সেই আবেগী মানুষটিকে খুঁজে না পাওয়া গেলেও কাল সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। আবেগে থরথর গলাতেই বললেন, ‘এমনটা শুধু স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়াতে আমি খুবই খুশি।’ মুশফিকুর রহিমের খুশি হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, নিয়মিত রানও করেন; কিন্তু টেস্টে এর আগ পর্যন্ত সেঞ্চুরি ছিল মাত্র একটি। তাও মাত্র ১০১ রানের। সেই ১০১ রানকেই কার টেনে দেশের প্রথম ২০০ রানে পরিণত করে ফেললেন। এই সময় তার কেবলই আনন্দের, কেবলই উত্সবের। কিন্তু উত্সবটা ঠিক জমছে না। মুশফিক নিজেই বললেন এই দারুণ আনন্দের সময়ে তার মনে খচখচ করছে একটা কষ্ট। কি সেই কষ্ট? আশরাফুলের ডাবল সেঞ্চুরি না পাওয়ার কষ্টে পুড়ছেন মুশফিকও, ‘আমরা কাল রাতে (পরশু) আলাপ করেছি, আগে আশরাফুল ভাইয়ের ডাবল হবে, তারপর নতুন লক্ষ্য ঠিক করবো। উনি দেশের সেরা ব্যাটসম্যান। এটা আমার চেয়েও ওনার বেশি পাওনা ছিল। দেড় দিন ধরে যেভাবে ব্যাট করেছেন; সেটা অবিশ্বাস্য। শুধু স্কোর দেখে ওনার কৃতিত্ব বোঝা যাবে না। অসম্ভব সুন্দর একটা ইনিংস খেলেছেন। কিন্তু উনি আর দশটা রান না করতে পারাটা খুব কষ্টের ব্যাপার হয়েছে।’ এই হলেন মুশফিকুর রহিম। দেশের ইতিহাস করে, বিশ্ব ক্রিকেটে এক রেকর্ড স্পর্শ করেও যার নিজেকে নিয়ে উচ্ছ্বাসের চেয়ে সতীর্থর কষ্টে কষ্টটা বেশি। অধিনায়ক আসলে একেই বলে বুঝি। তবে অধিনায়ক হিসেবে শুধু এসব কথা বললে চলছে না। ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে ম্যাচ এখন পর্যন্ত যা হয়েছে তাতে অধিনায়ক মুশফিকের অখুশি হওয়ার কথা নয়। তিনি বলছেন, এই দলীয় পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টই। এখন আজকের দিনটায় বোলারদের কাছ থেকেও কিছু পারফরম্যান্স দেখতে চান অধিনায়ক। আর ফল? ‘এখন তো ফলাফল নিয়ে কিছু বলা কঠিন। তবে ইতিবাচক কোনো রেজাল্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে চাই’—ইতিবাচক রেজাল্ট না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ড্রও তো ইতিবাচক ব্যাপার।