গল এখন মুশফিকুর
নাসির আশরাফুলের
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৩
গল এখন আর শুধু শেন ওয়ার্ন, মুরালিধরন, ক্রিস গেইল, জয়াবর্ধনের স্টেডিয়াম নয়। গল এখন মোহাম্মদ আশরাফুলের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসের মাঠ, গল এখন নাসির হোসেনের অনেক অপেক্ষার পর স্বপ্নপূরণেরও মাঠ। তবে বাংলাদেশের কাছে গল এখন সবচেয়ে বেশি করে মুশফিকুর রহিমের ইতিহাস গড়ার মাঠ; বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়ার মাঠ।
১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করার পর অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে কলম্বোর সমুদ্রনগরী গল। এখানে শেন ওয়ার্ন ৫০০তম উইকেট নিয়েছেন, মুরালিধরন ৮০০তম উইকেট নিয়েছেন, জয়াবর্ধনে দুই হাজারের ওপর রান করেছেন, ক্রিস গেইল ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন। বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এইসব তথ্যের কোনোটাই আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের কাছে গল এখন চিরস্মরণীয় নিজেদের ইতিহাসের জন্য।
সত্যিই কাল গলে অকল্পনীয় এক উচ্চতায় উঠে গেল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা যখন ৫৭০ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল; বাংলাদেশের সামনে ছিল তখন শুধুই শঙ্কা। একটার পর একটা চমক দিয়ে বাংলাদেশ সেসব শংকাকে আরব সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছে। সবশেষে কাল অলআউট হওয়ার আগে ৬৩৮ রানের পর্বত গড়ে তুলে বাংলাদেশ; এই ইনিংসের ভেতর দিয়ে নিজেদের আগের সর্বোচ্চ ৫৫৬ রান টপকে গেল তারা। আর বিশাল এই স্কোর গড়তে মুশফিকুর, আশরাফুলের পর কাল নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন আগে দু’দুবার নার্ভাস নাইনটিজে আউট হওয়া নাসির। আশরাফুলের ইনিংসটা ১৯০ রানে থমকে যাওয়াটা ছিল দিনে বাংলাদেশের একমাত্র হতাশা। তবে সব হতাশা ধুয়ে মুছে গেছে এক মুশফিকুরের কল্যাণে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম গত কয়েক মাস ধরেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভালো রান করেছেন। বিপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে অনুশীলন ম্যাচে আশি-ঊর্ধ্ব এক ইনিংস খেলেছিলেন। কিন্তু কাল যেন সবকিছুকে ভুলিয়ে দেয়ার প্রতীজ্ঞা নিয়ে নেমেছিলেন।
কাল সকালে সবার চোখ ছিল আশরাফুলের দিকে। মাত্র ১১ রান হলেই ডাবল সেঞ্চুরি হয়ে যেত। কিন্তু দিনের প্রথম বলেই লাইফ পাওয়া আশরাফুল আর মাত্র একটি রান করেই আউট! একটা স্বপ্ন ভেঙে গেল বাংলাদেশের। সে সময়ই হয়তো প্রতীজ্ঞাটা করেছিলেন তখন ১৫৬ রানে ব্যাট করতে থাকা মুশফিক। নাসির হোসেনকে নিয়ে শুরু করলেন আরেক অসামান্য প্রতিআক্রমণ।
নাসির হোসেনকে সাক্ষী রেখেই আস্তে আস্তে পৌঁছে গেলেন ১৯৯ রানে। মুশফিক তখনও শান্ত; কিন্তু দু’পায়ে দাঁড়িয়ে গেল পুরো বাংলাদেশ। সেটা ছিল ইনিংসের ১৬৮তম ওভার, মুশফিকুরের খেলা ৩২০তম বল। নুয়ান কুলাসেকেরার সাধারণ বলটা কাভারে ঠেলে দিয়ে একটা সিঙ্গেল নিয়েই গড়ে ফেললেন ইতিহাস; প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০০ রানের দেখা পেয়ে গেলেন মুশফিকুর। দু’দিন আগেও বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ছিল ১৫৮ রানের; কাল সেটিকেই মুশফিকুর ও আশরাফুল তিন নম্বরে নামিয়ে আনলেন!
মুশফিক এই ইনিংস খেলে শুধু বাংলাদেশের রেকর্ড গড়লেন তাই নয়। বিশ্বের অষ্টম উইকেটরক্ষক হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন মুশফিক। উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক হিসেবে মাত্র দ্বিতীয়বার এই কাজ করতে পারলেন তিনি। উল্লেখ্য মহেন্দ্র সিং ধোনি চলতি সিরিজেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো কাজটা করেছেন।
এখন মুশফিককে আর শুধু বাংলাদেশের ‘ক্যাপ্টেন কুল’ বললে চলছে না; তিনি এখন বিশ্বের বিবেচনাতেই ‘দ্য লিটল লিডার’!