আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই
সমস্যা সমাধান করতে হবে
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৩
বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ড. বাবাটুন্ডে ওসোতিমেহিন বলেছেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সন্ত্রাসের মাধ্যমে কোন কিছুর সমাধান সম্ভব নয়। বিভিন্ন মতের বা দলের লোকজনকে একসঙ্গে বসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সংলাপ ছাড়া কোন সমস্যারই সমাধান সম্ভব নয়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি একথা বলেন।
গতকাল সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ইত্তেফাকসহ তিনটি গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে দেয়া সক্ষাত্কারে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গত একমাস ধরে দেশ জুড়ে সহিংসতা এবং জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। ড. বাবাটুন্ডে বর্তমানে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
গতকালই তিনি ঢাকায় পৌঁছান। আজ মঙ্গলবার তিনি ‘গ্লোবাল লিডারশিপ মিটিং অন পপুলেশন ডায়নামিক্স এন্ড দ্য পোস্ট ২০১৫ ডেভেলপমেন্ট এজেন্ডা’ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দেবেন। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দিপু মনির সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন।
ড. বাবাটুন্ডে বলেন, জাতিসংঘ সবসময় সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে আইনের শাসনকে সমর্থন করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংলাপের উপর সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তিনি বলেন, যেকোন বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সকলেরই আছে। কিন্তু প্রতিবাদের বহির্প্রকাশে যাতে সন্ত্রাস স্থান না পায় সেদিকে সকলের নজর দিতে হবে। যেকোন দেশের যেকোন সমস্যা সমাধানে গণতন্ত্র চর্চার বিকল্প কিছু নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও সহিংসতা প্রসঙ্গে নাইজেরিয়ার সাবেক এই মন্ত্রী ড. বলেন, এধরনের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক এবং অনভিপ্রেত। সমাজে কোন ব্যক্তির অধিকার যাতে কোনভাবে ক্ষুণ্ন না হয় তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে সংখ্যালঘুরা যাতে সবধরনের অধিকার ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নে বাঁধার সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবন থেকে শিখেছি, সন্ত্রাস দিয়ে কোনকিছু অর্জন করা যায় না। সমাধানের একমাত্র পথ সংলাপ।’
শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গে সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ প্রতিবাদ করতেই পারে। সকল নাগরিকের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। সরকারকে এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখতে হবে।
ষোল বছর আগে তার প্রথম বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তখনকার তুলনায় এখনকার বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান অনেক উন্নত হয়েছে, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ঐসময় বাংলাদেশে হাতেগোনা কয়েকজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে দেখা যেত কিন্তু বর্তমানে নারীরা অনেক বেশি কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছেন। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হারও উল্লেখজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তেমনি জনসংখ্যা বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা গেছে, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সাফল্য।
তিনি বলেন, এমডিজি বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ভূমিকা ইতিবাচক। এসব ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে, নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নে এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুরুষের অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।