চট্টগ্রামে হরতালে পরিবহন ব্যবসায় শত কোটি টাকার ক্ষতি

দেশে হরতাল ও অবরোধে সর্বপ্রথম আঘাত আসে যানবাহনের উপর। যানবাহন ভেঙে আন্দোলনকারীরা মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে হরতালে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের কারণে ভোগ্যপণ্যসহ মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত পরিবহন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। গত ১৫ দিনে হরতালকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ সময় আগুনে পুড়ে ও লুট হয়েছে শত কোটি টাকার পণ্য। ফলে পণ্যবাহী গাড়ীর স্বল্পতায় ভাড়া বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ। এতে বেকায়দায় পড়েছে আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্য পরিবহন। পণ্য পরিবহন মালিক সমিতি জানায়, হরতালে আর ভাড়া নিচ্ছে না তারা। সামপ্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় সহিংস হরতালে পণ্য পরিবহনের যানবাহনগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু মোজাফফর ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত ১৫ দিনে দেশে প্রায় ১২ হাজার পণ্যবাহী যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় শত কোটি টাকার পণ্য নষ্ট ও লুটপাট হয়েছে। তার ক্ষয়ক্ষতি পরিবহন মালিকদেরকেই বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবহন সংকটে ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ।’ সংশ্লিষ্টরা জানান, পণ্য গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পরিবহন মালিকদের। পথে পণ্য ডাকাতি বা খোয়া গেলে পরিবহন মালিকদের পণ্যের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হয়। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিভিন্ন গুদামে বিপুল পরিমাণ পণ্য আটকা পড়েছে। অন্যদিকে শিল্প কারখানাগুলোতে ও রপ্তানিমুখী পণ্যও মজুদ রয়েছে। হরতালের কারণে এসব পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। এতে হরতাল না থাকলে আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্য পরিবহনে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অনেকেই পরিবহন ভাড়া বেশি দিয়ে হলেও গাড়ি ভাড়া নিচ্ছে। অন্যদিকে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের স্বল্পতা সৃষ্টি হয়েছে বলে পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানান। হরতাল ও গাড়ি ভাংচুরের কারণে ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার ভাড়া ১২ হাজার থেকে বেড়ে ২৫/২৬ হাজার হয়েছে। চট্টগ্রাম পরিবহন ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল বাহার জানান, ‘কয়েক দিনের সহিংসতায় পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে আগুন ও ভাংচুরের ঘটনায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছে পরিবহন মালিকরা। অনেকেই উপার্জনের সম্বলটুকু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। আর পরিবহন ভাড়া বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।’ রি-রোলিং মিলের মালিক আবু তাহের জানান, ‘পরিবহনে অব্যবস্থার কারণে লোহার রড ব্যবসায় ধস নেমেছে। এক অর্থে বেচা-বিক্রি বন্ধ। মালের অর্ডার দেয়াও কমে গেছে।’ আমদানিকারকরাও পণ্য নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে। আমদানিকারক নুরুল আলম জানান, বন্দরে প্রচুর পণ্য পরিবহনের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যাংক ঋণের সুদ গুণতে হচ্ছে। এতে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভোক্তারা।