হরতাল প্রত্যাখ্যানের
আহ্বান ১৪ দলের
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৬
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ ১৮ দলের ডাকা আজ মঙ্গলবারের হরতাল প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার জন্য দেশকে অস্থিতিশীল করতে সম্পূর্ণ নাটক সাজিয়ে হরতাল দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি সুপরিকল্পিতভাবে জনগণের উপর হরতাল নামক নির্যাতন অস্ত্রটি চাপিয়ে দিয়েছে। তবে হরতালের নামে নৈরাজ্য প্রতিহত করতে সারাদেশে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের সভা শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৪ দলের পক্ষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, জাসদের শিরিন আখতার প্রমুখ। বৈঠকে সিঙ্গাপুরে চিকিত্সাধীন অসুস্থ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের আশু সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়।
দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের সহিংস কর্মকাণ্ড ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, আগামী নির্বাচনের কৌশলসহ চলমান রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি নিজেরাই কয়েকটা পটকা ফুটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হরতাল দিয়েছে। পটকা ফুটানোর ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী জড়িত ছিল না। তিনি বলেন, বিএনপি আজকে যা করেছে তা কোন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না। বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক তত্পরতা নেই, তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য হরতালের নামে তারা নৈরাজ্যের পথ বেছে নিয়েছে।
বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী যুক্তিসংগত কারণেই তাদের গ্রেফতার করেছে। নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে তারা যে কাউকেই গ্রেফতার করতে পারে। বর্তমান সংকট নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা বসা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির মূল উদ্দেশ্য একাত্তরের ঘাতকদের রক্ষা করা। তারা এ নিয়ে আলোচনা করতে চায়। তবে ঘাতকদের মুক্তির প্রশ্নে আলোচনা হতে পারে না। যখন যাকে পাওয়া যাবে তারই বিচার হবে। কোন যুদ্ধাপরাধী বাংলার মাটিতে বিচারের বাইরে থাকবে না।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপির ডাকা হরতাল সুপরিকল্পিত, জনগণ এ হরতাল প্রতিহত করবে। হরতাল প্রতিহতে ১৪ দলও মাঠে থাকবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর আটকের ঘটনায় সরকার যে আলোচনার কথা বলছে তাতে কোন প্রভাব পড়বে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন, বিএনপির আলোচনার কোন মনোভাব নেই। আলোচনার ইচ্ছা থাকলে গ্রেফতার কোন বিষয় নয়। আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।